নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, প্রথমে ছাত্রদের দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে “সংগঠিত গোষ্ঠী”র হাতে চলে যায় এবং সেটিকে রাজনৈতিক সহিংসতার হাতিয়ারে পরিণত করা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি শুধু পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নন, বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর কন্যা হিসেবেও এই বিষয়ে কথা বলছেন।

– বিজ্ঞাপন –

হাসিনার বক্তব্য, আন্দোলনের শুরু থেকেই তাঁর সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী ছাত্রদের আন্দোলনকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে।

তাঁর কথায়, “প্রথম থেকেই আমার সরকার শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি ছাত্রদের দাবিকে সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনের হাতিয়ারে পরিণত করে। বিভ্রান্ত ও ক্লান্ত ছাত্রদের আবেগকে কাজে লাগানো হয়েছিল।”

২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগে বাংলাদেশে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এদিকে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। হাসিনার দেশত্যাগের তিন দিনের মাথায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *