ভারতে নারীদের নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ ও বিয়ের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা তাদের ধর্ম, বিবাহ এবং ভবিষ্যৎ জীবনের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

সোমবার (৩ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি ভারতে ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া ওরফে জয়া দিয়া ভাটিয়া এবং ৩৫ বছরের অংশু ভাটিয়া ওরফে আমিনা অংশু ভাটিয়া নামে দুই বোন হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাদের বাবার অমত থাকায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে তাদের জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে বলে তাদের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস রিটে অভিযোগ করা হয়। এই রিটের শুনানির সময় বিচারপতি সন্দীপ জৈন এই রায় দেন।

গত ৩১ জুলাই হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, এই দাবিগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ওই নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বাবা বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ তাদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার যেমন—মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বায়ত্তশাসনের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। ‘স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন’

তারা দাবি করেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়ায় তারা কোনো প্রকার জবরদস্তি, প্রলোভন বা অযাচিত প্রভাব ছাড়াই স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারা আরও জানান, তারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী বিয়ে করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন থেকে উদ্ভূত একটি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার।

তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী বিন সাইফ এবং দীনেশ কুমার যাদব যুক্তি দেন, তাদের এই স্বাধীন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বাবা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৮৭ ধারার অধীনে ৪ মে, ২০২৫ তারিখে একটি মিথ্যা ও বিদ্বেষপূর্ণ এফআইআর দায়ের করেন। এই ধারায় নারীকে অপহরণ, তুলে নিয়ে যাওয়া বা বিয়েতে বাধ্য করার জন্য প্ররোচনা দেওয়ার শাস্তির বিধান রয়েছে।

তিনি যুক্তি দেন, এই অভিযোগটি দায়ের করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাদের আইনসম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া এবং এই নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করা। আরও অভিযোগ করা হয়েছিল, বাবা স্থানীয় পুলিশের সাথে যোগসাজশে তাদেরকে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিলেন এবং তাদের স্বাধীনতা খর্ব করেছিলেন।

আইনজীবী জানান, যেহেতু তারা স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তাই উত্তর প্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর প্রতিরোধ আইন, ২০২১-এর বিধানগুলো এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আরও বলা হয়, এমন কোনো অভিযোগ বা তথ্যপ্রমাণ দাখিল করা হয়নি যা থেকে বোঝা যায়, এই ধর্মান্তর বলপ্রয়োগ, ভুল তথ্য প্রদান, অযাচিত প্রভাব, জবরদস্তি, প্রলোভন বা প্রতারণামূলক উপায়ে ঘটানো হয়েছিল।

এই বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে আদালত উত্তর প্রদেশ কর্তৃপক্ষ এবং ওই দুই বোনের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট ওই তারিখে তাদের হাজির করা না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করতে হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *