সামাজিক কর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন বুধবার ১৮ দিনে পড়ল। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছু সূচক ধীরে ধীরে নেমে এলেও এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। অনশন ভাঙার জন্য বহু মহল থেকে আবেদন এলেও ওয়াংচুকের বক্তব্য, “আমাকে অনশন ভাঙতে বলার আগে সরকারকে জিজ্ঞেস করুন, তারা আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছে না কেন?”
বর্তমানে দিল্লির যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াংচুক। আন্দোলনের অন্যতম দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। সাম্প্রতিক NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং CBSE-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
– বিজ্ঞাপন –
একসময় ছিল সৌহার্দ্য, এখন তীব্র দূরত্ব
২০২৩ সালের মার্চে দিল্লিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ওয়াংচুক ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে বৈঠককে “চমৎকার আলোচনা” বলে উল্লেখ করেছিলেন। ওয়াংচুকও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ভাবনার প্রতি প্রধানের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেছিলেন।
কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। ওয়াংচুকের অভিযোগ, লাদাখের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁদের প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস, লাদাখ (HIAL)-এর বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতির ফাইল আটকে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছরের জমির লিজও বাতিল করে লাদাখ প্রশাসন।
লাদাখ আন্দোলন থেকে জেল
২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের পুনর্গঠনের সময় লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ওয়াংচুক। কিন্তু পরে রাজ্যের মর্যাদা, ষষ্ঠ তফসিলের সাংবিধানিক সুরক্ষা, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লেহে আন্দোলন ঘিরে হিংসার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয়। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ছয় মাস জোধপুর জেলে থাকার পর ২০২৬ সালের মার্চে তিনি মুক্তি পান।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি
এ বছরের এপ্রিল-মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লাদাখ সফরে গেলে ওয়াংচুক তাঁর কাছে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি তোলেন।
পরে লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB), কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (KDA) এবং কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনায় অনুচ্ছেদ ৩৭১-এর আওতায় লাদাখের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে নীতিগত ঐকমত্যের কথা জানানো হয়। সম্প্রতি কেন্দ্র সাতটি জেলার জন্য পৃথক হিল কাউন্সিল এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল স্তরের সমন্বয়কারী সংস্থা গঠনের ঘোষণাও করেছে। যদিও এই ঘোষণার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি ওয়াংচুক।
সমর্থনে বিরোধী নেতারা
ওয়াংচুকের অনশন মঞ্চে ইতিমধ্যেই কয়েকজন বিরোধী সাংসদ উপস্থিত হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কংগ্রেসের একাধিক নেতা তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এখনও অনশন মঞ্চে যাননি।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তাঁকে মহাত্মা গান্ধী বা আন্না হাজারের সঙ্গে তুলনা করা হোক, তা তিনি চান না। তাঁর দাবি, ককরোচ জনতা পার্টি কোনও রাজনৈতিক দলের মঞ্চ নয়, বরং যুবসমাজের কণ্ঠস্বর।
এদিকে, আগামী ২০ জুলাই, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন যন্তর-মন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
