স্পেন: ১ (মিকেল মেরিনো) পর্তুগাল: ০
খবর অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল স্পেন। এই হারের ফলে পর্তুগাল বিদায় নিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারও সম্ভবত এখানেই শেষ হয়ে গেল।
– বিজ্ঞাপন –
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের দিকেই ম্যাচ এগোচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ে ফাউলের পর দ্রুত ফ্রি-কিক নিয়ে নিজেই সামনে এগিয়ে যান মিকেল মেরিনো। ফেরান তোরেসের পাস পেয়ে তিনি জোরালো শটে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তাকে পরাস্ত করেন। সেই গোলেই স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়।
১৬ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন
এই জয়ের ফলে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল স্পেন। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে।
অন্যদিকে, পর্তুগালের লক্ষ্য ছিল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। কিন্তু স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ১৪৬টি গোল এবং ২৩৩টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী ৪১ বছর বয়সি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন। ছবি এআই সহায়তায় তৈরি।
বিজ্ঞাপন
শেষ মুহূর্তে নেমে দলকে জয় এনে দিলেন মেরিনো
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি এবং আক্রমণভাগে কার্যকর ভূমিকা স্পেনকে জয় এনে দেয়। গত মে মাসে আর্সেনালের হয়ে ২০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মেরিনো চোটের কারণে এই বিশ্বকাপে স্পেনের দলে সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল।
আইবেরীয় উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন ও পর্তুগালের এই লড়াই ছিল তাদের দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়। ১০৫ বছর আগে মাদ্রিদে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়া দুই দল ২০২২ বিশ্বকাপে স্মরণীয় ৩-৩ ড্র করেছিল। সেই ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো বিশ্বকাপে নিজের একমাত্র হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
এবারের বিশ্বকাপে রোনাল্ডো তিনটি গোল করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের বিপক্ষে তিনি তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। প্রথমার্ধে রোনাল্ডোর দুটি শট দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন সিমন। বিশেষ করে দ্বিতীয় সেভটি ছিল অসাধারণ। লাফিয়ে ওঠা অবস্থাতেই দুই হাতে বলটি ধরে ফেলেন তিনি।
স্পেন পুরো ম্যাচে আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল। তবে গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত মেরিনোর দেরিতে করা গোলই স্পেনকে জয় এনে দেয়।
টানা গোল না খাওয়ার রেকর্ড স্পেনের
এই ম্যাচে গোল না খেয়ে স্পেন বিশ্বকাপে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ ক্লিন শিট রেখে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ১৯৯০ সালে ইতালি এবং ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সুইৎজারল্যান্ড টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল না খাওয়ার নজির গড়েছিল।
স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের টানা গোল না খাওয়ার সময়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০৯ মিনিটে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভালতের জেঙ্গা ৫১৭ মিনিট গোল না খেয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।
স্পেনের এই রক্ষণাত্মক সাফল্যের সূচনা হয় ২০২২ বিশ্বকাপে। সেই আসরের শেষ ষোলোর ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে ০-০ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে বিদায় নিলেও এরপর থেকে টানা গোল না খাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দলটি। চলতি বিশ্বকাপে কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টানা চারটি ম্যাচে জয় এবং ক্লিন শিট রেখে স্পেন এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
