বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার অন্যতম সফল দল মিশরের মধ্যকার লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুদল। ম্যাচের আগে দেখে নেয়া যাক দুদলের পরিসংখ্যান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। তবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে একবার দেখা হয়েছিল দুদলের। ২০০৮ সালে কায়রোতে হওয়া সে ম্যাচে সার্জিও আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসোর গোলে ২-০তে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। চোটের কারণে ওই ম্যাচে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।
পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ আটটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। চলতি আসরেও তারা আফ্রিকার দুই প্রতিনিধি আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে। ফলে এই ম্যাচে মিশরকে হারাতে পারলে এক বিশ্বকাপে তিন আফ্রিকান দলকে হারানোর নতুন ইতিহাস গড়বে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এপর্যন্ত কোন দলই বিশ্বকাপের এক আসরে তিনটি আফ্রিকান দলের বিপক্ষে জয় পায়নি।
আরেকটি রেকর্ডের সামনেও দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত দুটি করে গোল করেছে তারা। এ ম্যাচেও যদি দুই বা তার বেশি গোল করতে পারে, তাহলে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে উরুগুয়ের গড়া টানা ১১ বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার রেকর্ডে ভাগ বসাবে তারা।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে মিশরকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে নকআউটে ওঠে আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
মিশরের সামনে অবশ্য সহজ চ্যালেঞ্জ নয়। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ছয় ম্যাচে তারা করেছে আট গোল, হজম করেছে নয়টি। তবে অধিনায়ক মোহাম্মেদ সালাহ দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। চলতি আসরে এপর্যন্ত ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। এই ম্যাচে আরও দুটি সুযোগ তৈরি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের গড়া এক আসরে কোন আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ ১৮টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড স্পর্শ করবেন সালাহ।
আরও একটি পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। ম্যাচের আগে ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালিয়ে অপটার সুপারকম্পিউটার দেখিয়েছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬৯.৬ শতাংশ। অন্যদিকে মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১১.৫ শতাংশ। আর ১৮.৯ শতাংশ সিমুলেশনে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ড্র হয়েছে, যা গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।


