সুইৎজারল্যান্ড: ২ (ব্রিল এম্বোলো, ড্যান এনদোয়ে) আলজেরিয়া: ০
খবর অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ল সুইৎজারল্যান্ড। টানা তিনটি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব অর্জনের পাশাপাশি ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিল সুইসরা। আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে শেষ আটে ওঠার লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে এ বার তারা কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে মুখোমুখি হবে কোলোম্বিয়া ও ঘানার মধ্যেকার ম্যাচের বিজয়ীর।
– বিজ্ঞাপন –
১০ মিনিটেই সুইসদের গোল
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল সুইৎজারল্যান্ড। পুরো ম্যাচে তাদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগেরও প্রয়োজন পড়েনি। তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জোহান মানজাম্বি শুরু থেকেই দারুণ নৈপুণ্য দেখান এবং ম্যাচের ১০তম মিনিটে তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন ব্রিল এম্বোলো। সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়িয়ে সুইৎজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় ধাক্কা আলজেরিয়াকে
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও বড় ধাক্কা খায় আলজেরিয়া। ৪৬তম মিনিটে নিজেদের পেনাল্টি এলাকার ভেতরে টানা দু’বার বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ড্যান এনদোয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
মধ্যমাঠে অভিজ্ঞ গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়েলার পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের কারণে সুইৎজারল্যান্ড সহজেই খেলার গতি নিজেদের পক্ষে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে রক্ষণভাগও ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। আলজেরিয়া আক্রমণের চেষ্টা করলেও সুইস ডিফেন্ডাররা পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন।
বলের দখলে আলজেরিয়া এগিয়ে থাকলেও লাভ হল না
পরিসংখ্যান বলছে, বলের দখলে আলজেরিয়া কিছুটা এগিয়ে ছিল। তাদের দখলে ছিল ৫০ শতাংশ বল, যেখানে সুইৎজারল্যান্ডের দখলে ছিল ৪৩ শতাংশ। বাকি ৭ শতাংশ সময় বল ছিল দুই দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
বিজ্ঞাপন
তবে বলের দখল বেশি থাকলেও আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি আলজেরিয়া। দ্বিতীয় গোল হজম করার কয়েক মিনিট পর অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের একটি শট সুইৎজারল্যান্ডের রক্ষণভাগে প্রতিহত হয়। সেটিই ছিল তাদের শেষ উল্লেখযোগ্য সুযোগ। এরপর আর এমন কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি, যা সুইৎজারল্যান্ডকে চাপে ফেলতে পারত।
শটের পরিসংখ্যানে সুইসরা এগিয়ে
শটের পরিসংখ্যানে সুইৎজারল্যান্ড এগিয়ে ছিল ১১-৮ ব্যবধানে। লক্ষ্যে রাখা শটেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ছিল স্পষ্ট—৫টি অন-টার্গেট শটের বিপরীতে আলজেরিয়ার ছিল মাত্র ২টি।
এই জয়ের ফলে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে নামবে সুইৎজারল্যান্ড। প্রতিপক্ষ কোলোম্বিয়া হোক বা ঘানা—দুই দলের বিপক্ষেই নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী থাকতে পারে সুইসরা।
