ঝড় বইছে মারাঠা রাজনীতিতে। শিব সেনার উদ্ধব শিবির ভেঙে শিণ্ডে শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন ৬ সাংসদ। এই বিদ্রোহী দলে রয়েছেন সাংসদ সঞ্জয় দিনা পাটিল। শোনা যাচ্ছে, রবিবারই সম্পন্ন হতে পারে এই দলবদল প্রক্রিয়া। তবে সঞ্জয় ‘অপারেশন টাইগারের’ শিকার হলেও উদ্ধব ঠাকরের প্রতি আনুগত্য দেখালেন তাঁর কন্যা রাজুল। রবিবার উদ্ধবের সঙ্গে দেখা করতে মাতশ্রীতে গেলেন তিনি। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, “বাবা বিদ্রোহী হলেও আমি গদ্দার নই।”
উদ্ধব ঠাকরের বাসভবন মাতশ্রী ভবন থেকে ফিরে রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজুল পাটিল বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তিনি উদ্ধব ঠাকরের শিবিরেই থাকবেন। তিনি বলেন, “আমি উদ্ধব ঠাকরে এবং আদিত্যর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আমার অবস্থান আমি তাঁদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছি। যাই হোক না কেন আমি দলেই রয়েছি। ওনাদের সঙ্গেই রয়েছি। আগামী দিনেও আমি নিষ্ঠার সঙ্গেই দলের দায়িত্ব পালন করব।” রাজুল বলেন, “আমি ওনাদের সঙ্গে দেখা করে আমার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছি। আমার সততায় উদ্ধব ঠাকরে খুশি হয়েছেন।” পিতার দল বদল প্রসঙ্গে কন্যা বলেন, “আমার বাড়িতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সকলের রয়েছে। আমার বাবা তাঁর মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি আমার সিদ্ধান্ত আপনাদের কাছে রাখলাম।”
আরও পড়ুন:
সঞ্জয় দিনা পাটিল ‘অপারেশন টাইগারের’ শিকার হলেও উদ্ধব ঠাকরের প্রতি আনুগত্য দেখালেন তাঁর কন্যা রাজুল।
উল্লেখ্য, উদ্ধব সেনায় ভাঙনের জল্পনার মাঝেই গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শিব সেনার সংসদীয় বৈঠকে সকল সাংসদকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দলের তরফে হুইপ জারি করা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩ জন। একসঙ্গে ৬ জনের অনুপস্থিতি বিজেপির শিব সেনায় ‘অপারেশন টাইগারের’ জল্পনা বাড়িয়ে তোলে। এই ঘটনায় শনিবার শিব সেনা (ইউবিটি)র মুখ্য সচেতক অনিল দেশাই বিদ্রোহী ৬ সাংসদকে শোকজ নোটিস ধরান। যেখানে বলা হয়েছে, কেন তাঁরা দলের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে হবে। যদি সাংসদরা জবাব না দেন, সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে তাঁরা দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন। এর ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
উদ্ধব সেনার যে ৬ বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে তাঁরা হলেন, নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে। শিব সেনার রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, “ওই সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার যাবতীয় প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “যদি লোকসভার স্পিকার নিয়ম, আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন, তাহলে এই ব্যক্তিরা অযোগ্য ঘোষিত হবেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর

