রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর তাদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাউনিয়া গ্রামের মাইন উদ্দিন। পরিবারের দাবি, কোম্পানিতে চাকরির আশায় রাশিয়ায় গেলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

রাশিয়া থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আরমান হোসেন নামে এক বাংলাদেশি অভিযোগ করেন, তাদের কয়েকদিন ধরে মাটির নিচের বাঙ্কারে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি, মারধর করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তার দাবি, ইতোমধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে মাইন উদ্দিনও একাধিকবার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পাঠানো বার্তাগুলোতে তিনি সরকারের সহযোগিতায় দেশে ফিরতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মাইন উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় উদ্বেগ আর শোকের পরিবেশ। পরিবারের দাবি, ছেলেকে সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার খবরের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে তার বাবা মারা গেছেন। সংসারের অভাব দূর করতে বিদেশে পাড়ি জমালেও এখন জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

মাইন উদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মাইন উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। যারা প্রতারণা করে তাকে রাশিয়ায় নিয়ে গেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, পরিবারের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মাইন উদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। এরপরও দালাল চক্রের প্রলোভনে অনেকেই বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও মানুষ একই ফাঁদে পড়তে পারেন।

এদিকে, মাইন উদ্দিনের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও তিন বছরের সন্তান তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। পরিবারের একটাই দাবি, দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *