গত ১৫ বছরে নানা কারণে বাংলার আর্থিক পরিকাঠামো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। শিল্প-কর্মসংস্থানে দেদার ঘাটতি, রাজস্ব সংকোচন-সহ একাধিক কারণ রয়েছে এর নেপথ্যে। সেই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো নতুন সরকারের আমলে রীতিমতো বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের আমলে অর্থদপ্তরের দায়িত্ব গিয়েছে সুযোগ্য মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর হাতে। দায়িত্ব নিয়েই তিনি অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইউরোপের ধাঁচে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর কথা শোনালেন। তাঁর মতে, একাধিক সংস্কারমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক কাঠামোকে আবার ভালো অবস্থায় ফেরানো সম্ভব। ‘মার্শাল প্ল্যান’ অনুযায়ী কীভাবে কাজ এগোবে? আসুন, বুঝে নেওয়া যাক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপের একের পর এক দেশকে ফের গড়ে তুলতে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব জর্জ সি মার্শাল বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে কোনও দেশই ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির জন্য বড়সড় আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছিলেন মার্শাল। ঋণদান, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত নানা সাহায্য করা হয়েছিল। যার উপর ভিত্তি করে দু’দশকের মধ্যেই পশ্চিম জার্মানি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশের আর্থিক মেরুদণ্ড শক্তপোক্ত হয়েছিল। উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে জোর, শিল্প-বাণিজ্যক্ষেত্র চাঙ্গা হওয়া আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

আরও পড়ুন:

‘মার্শাল প্ল্যান’ বিষয়টা কী? কীভাবেই বা অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে তা ইউরোপীয় দেশগুলিতে ফলপ্রসূ হয়েছিল? – এই প্রেক্ষাপট আগে জেনে নেওয়া যাক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপের একের পর এক দেশকে ফের গড়ে তুলতে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব জর্জ সি মার্শাল বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে কোনও দেশই ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির জন্য বড়সড় আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছিলেন মার্শাল। ঋণদান, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত নানা সাহায্য করা হয়েছিল। যার উপর ভিত্তি করে দু’দশকের মধ্যেই পশ্চিম জার্মানি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশের আর্থিক মেরুদণ্ড শক্তপোক্ত হয়েছিল। উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে জোর, শিল্প-বাণিজ্যক্ষেত্র চাঙ্গা হওয়া আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। দ্রুতই ক্ষতি পূরণের মতো কৌশল তাদের করায়ত্ত।

কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্য, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা এবং সর্বোপরি কেন্দ্রের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প এই ‘মার্শাল প্ল্যানে’র অন্তর্গত হতে চলেছে। এ প্রসঙ্গে স্বপনবাবু জিরামজি প্রকল্প অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো একাধিক প্রকল্পের কথা বলেছেন। বাংলায় তা সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিকভাবে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। কারণ, এতেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন হবে।

রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর মতে, তেমন ‘মার্শাল প্ল্যান’ই একমাত্র তছনছ হয়ে যাওয়া অর্থনীতির হাল ফেরাতে পারে। তবে তা বাংলার ক্ষেত্রে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ, তা মনে করছেন স্বপনবাবু নিজেই। কীভাবে কাজ হবে ওই পরিকল্পনায়? অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো, বিনিয়োগ এবং সরকারি সাহায্য – এসব মিলিয়েমিশিয়ে একটা আদর্শ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এই মুহূর্তে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রভূত সাহায্য করবে বলে তাঁর আশা। কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্য, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা এবং সর্বোপরি কেন্দ্রের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প এই ‘মার্শাল প্ল্যানে’র অন্তর্গত হতে চলেছে। এ প্রসঙ্গে স্বপনবাবু জিরামজি প্রকল্প অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো একাধিক প্রকল্পের কথা বলেছেন। বাংলায় তা সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিকভাবে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। কারণ, এতেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন হবে।

একইসঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সাহায্যও নেওয়ার পক্ষপাতী নতুন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান মূলত পরিকাঠামো উন্নয়নে ঋণ দিতে আগ্রহী, তাদের সহায়তা গ্রহণ করতে হবে। তবে সবচেয়ে জরুরি, ভঙ্গুর আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা। এই মুহূর্তে বাংলা নানারকম আর্থিক দায়ভার বহন করে চলেছে। তার অনেকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া বিভিন্ন ভাতার কারণে। এছাড়া রয়েছে বিপুল ঋণের বোঝা। যদিও বাংলার উপর মোটা অঙ্কের ঋণ নতুন কিছু নয়। সেই বাম আমল থেকেই চলছে। এই ঋণ মেটাতে অর্থমন্ত্রী পাঞ্জাব, কেরলের ধাঁচে রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধিকে অন্যতম রাস্তা বলে মনে করছেন।

স্বপন দাশগুপ্তর ‘মার্শাল প্ল্যান’ প্রাথমিকভাবে তিনটি ধাপে কাজ করতে পারে। তা হল –

১. ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি। ৯০ শতাংশ ব্যয়ই হচ্ছে সরকারি কর্মীদের বেতন, পেনশন ও জনগণকে ভর্তুকি দেওয়ায়। এছাড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো একাধিক সামাজিক প্রকল্পের বহু খরচ হয়েছে। এবার সেসব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

২. সুদের অঙ্কে লাগাম টানা। ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়ে যায় শুধু সুদ মেটাতে, যা মোট রাজস্বের ৪২ শতাংশ। এই সমস্যা দ্রুত মেটানো দরকার।

৩. বিনিয়োগ অঙ্ক আরও বাড়ানো। যদিও ইতিমধ্যে বহু বেসরকারি সংস্থা রাজ্যে নানা খাতে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু তা দীর্ঘ সময়ের জন্য চালু রেখে রাজ্যের আর্থিক গতি বৃদ্ধি এখনও সম্ভব হয়নি। সেই কাজের মাধ্যমে অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন চান অর্থমন্ত্রী।

এখন এটাই দেখার, স্বপন দাশগুপ্তর এই ‘মার্শাল প্ল্যান’, তার নীতি নির্ণয়, বাস্তবায়ন এবং রাজ্য সরকারের রাজনীতি – এই সব একই পথে চলে কি না। অর্থাৎ সত্যি সত্যি বঙ্গে অর্থনৈতিক খরা কেটে সুদিন ফেরে কিনা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *