কলকাতা: কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান উদ্বেগজনক বলে উঠে এসেছে সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (CSE)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা রিপোর্টে।
‘স্টেট অব ইন্ডিয়াস এনভায়রনমেন্ট ২০২৬: ইন ফিগারস’ শীর্ষক রিপোর্টে দেশের ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে চারটি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকগুলি হল— পরিবেশ, কৃষি ও ভূমি, জনস্বাস্থ্য এবং মানব উন্নয়ন ও জনপরিকাঠামো। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএসই।
– বিজ্ঞাপন –
রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘কৃষি ও ভূমি’ বিভাগে পশ্চিমবঙ্গ ৫৪.১১ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে। একইভাবে ‘জনস্বাস্থ্য’ বিভাগে ৬১.১৫ নম্বর নিয়ে নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে রাজ্য। গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যের অগ্রগতি এই সাফল্যের মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই ইতিবাচক দিকগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগ। ‘পরিবেশ’ সূচকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ২৪তম। এই বিভাগে রাজ্যের প্রাপ্ত নম্বর মাত্র ৪৭.০৭। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা, অপর্যাপ্ত নিকাশি শোধন ব্যবস্থা এবং নদী দূষণের মতো সমস্যাই পশ্চিমবঙ্গকে নিচের সারিতে ঠেলে দিয়েছে।
গবেষকদের মতে, শহরাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলগুলিতে বর্জ্য নিষ্পত্তি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে পরিবেশ সংক্রান্ত অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যও ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
মানব উন্নয়ন ও জনপরিকাঠামো সূচকেও পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। এই বিভাগে রাজ্য ৫০.৪৭ নম্বর পেয়ে ২২তম স্থানে রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ৩২টিরই এই সূচকে নম্বর ৫০ শতাংশের নিচে। রাস্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আবাসন পরিকাঠামোয় ঘাটতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিএসই-র ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারায়ণ বলেন, “পরিসংখ্যান আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে এবং পরিবেশের অবস্থার স্পষ্ট ধারণা দেয়।”
তিনি আরও বলেন, ভারতের পাঁচটি সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য— উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও মধ্যপ্রদেশ— কোনও সূচকেই শীর্ষ পাঁচে জায়গা করতে পারেনি। এর অর্থ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে বঞ্চিত।
সিএসই-র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রিচার্ড মহাপাত্র সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো জনবহুল রাজ্যগুলিতে পরিবেশ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘাটতি থাকলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অর্জন ধরে রাখতে হলে টেকসই নগর পরিকল্পনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও জোর দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই সাফল্যও চাপে পড়তে পারে।
