এক সময় স্ট্রোক মানেই মনে করা হত বৃদ্ধ বয়সের অসুখ। কিন্তু বদলেছে বাস্তবতা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল স্ট্রোক রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম’-এর সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ভারতে ৪৫ বছরের মধ্যে প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশের ৩০টি হাসপাতালে ভর্তি ৩৫ হাজারেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে। রোগীদের গড় বয়স ৫৯ বছর হলেও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—ক্রমশ কমছে স্ট্রোকের বয়সসীমা।
কেন বাড়ছে কমবয়সিদের স্ট্রোক?
গবেষণায় স্ট্রোকের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ রক্তচাপ। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই অনিয়ন্ত্রিত হাইপারটেনশন ছিল মূল ট্রিগার।
এছাড়াও যেসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে—
- ডায়াবেটিস
- তামাক সেবন
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি
আরও পড়ুন: মাত্র ৮ মিনিটের রাগেই বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি! বলছে গবেষণা
চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক শহুরে জীবনযাপনও বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব, ফাস্ট ফুড নির্ভরতা, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব—এই সব মিলেই তৈরি হচ্ছে বিপজ্জনক স্বাস্থ্যপরিস্থিতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০-৪০ বছরের মধ্যেই অনেকের রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ছে। কিন্তু নিয়মিত পরীক্ষা না করানোর ফলে সমস্যা ধরা পড়ছে দেরিতে।
স্ট্রোক আসলে কী?
স্ট্রোক হয় যখন মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে স্থায়ী পক্ষাঘাত, বাকশক্তি হারানো বা মৃত্যুও হতে পারে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। কয়েকটি সহজ অভ্যাসই ঝুঁকি কমাতে পারে—
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ
- রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কসরত
- লবণ ও তেল কমিয়ে সুষম খাবার
- তামাক ও মাদক সম্পূর্ণ বর্জন
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
চিকিৎসকদের বক্তব্য, ‘৪০ পেরোলেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা’—এই ধারণা বদলাতে হবে। ২৫-৩০ বছর থেকেই সচেতনতা প্রয়োজন।
স্ট্রোক হঠাৎ হয়, কিন্তু তার বীজ বোনা হয় বহু বছর ধরে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার রক্তচাপ শেষ কবে মাপা হয়েছে? আজই খোঁজ নিন—স্বাস্থ্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সম্পদ।
