ভারতে ক্রেডিট কার্ড এখন দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনলাইন শপিং থেকে ভ্রমণ খরচ—সব ক্ষেত্রেই কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে আয়কর নিয়মে কিছু পরিবর্তন কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

 ১. উচ্চমূল্যের পেমেন্টে নজরদারি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি উচ্চমূল্যের লেনদেনকে কেন্দ্র করে। কোনও আর্থিক বছরে এক বা একাধিক ক্রেডিট কার্ড বিলের ক্ষেত্রে যদি ₹১ লাখ বা তার বেশি নগদে পরিশোধ করা হয়, তা আয়কর দফতরে রিপোর্ট করা হবে।

শুধু নগদ নয়, ₹১০ লাখ বা তার বেশি অ-নগদ লেনদেন হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী সংস্থাকে তা আয়কর দফতরে জানাতে হবে। ফলে বড় অঙ্কের লেনদেন এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারির আওতায় আসবে।

– বিজ্ঞাপন –

২. প্যান ও ঠিকানার প্রমাণ

প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করতে ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তবে সেটি তিন মাসের বেশি পুরনো হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। পুরনো স্টেটমেন্ট আর বৈধ হিসেবে ধরা হবে না।

অন্যদিকে, নতুন ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রেও প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্যান ছাড়া আর কার্ড পাওয়া যাবে না।

৩. ডিজিটাল পেমেন্টে উৎসাহ

সরকার ডিজিটাল লেনদেনকে আরও উৎসাহিত করতে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড ও নেট ব্যাঙ্কিংকে বৈধ ইলেকট্রনিক ট্যাক্স পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে ট্যাক্স ফাইলিং প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

৪. অফিসিয়াল কার্ডের খরচে করের নিয়ম

কোনও সংস্থা যদি কর্মচারীকে অফিসিয়াল ব্যবহারের জন্য ক্রেডিট কার্ড দেয় এবং সেই কার্ডে ব্যক্তিগত খরচ হয়, তা সংস্থা রিইম্বার্স করলে সেই অর্থ করযোগ্য সুবিধা (Taxable Benefit) হিসেবে গণ্য হতে পারে।

কী বোঝা যাচ্ছে?

এই পরিবর্তনগুলি মূলত বড় অঙ্কের লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি রোধের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল—বড় পেমেন্টের ক্ষেত্রে নথিপত্র সঠিক রাখা এবং প্যান সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *