জামালপুরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়া, ঠান্ডা জ¦র ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। শয্যা সংকটের কারণে কোনো কোনো বিছানায় তিনজন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৮ মাস বয়সী শিশু খাদিজাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ছয় দিন ধরে সে ঠান্ডা, জ্বর ও কাশিতে ভুগছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুধু খাদিজাই নয়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়া, ঠান্ডা জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী।

খাদিজার মা হ্যাপি বেগম বলেন, ‘ছয় দিন আগে আমার মেয়ের ঠান্ডা জ্বর শুরু হয়। এলাকার ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানোর পর সুস্থ হয়নি। বরং বমি শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছে। শীত পড়ার পর থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি। শীতের তীব্রতা বাড়লে রোগীর সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডা জ¦রে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার  হাসপাতালে ৫৫৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ঠান্ডা জ¦র, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা শিশুর সংখ্যা ছিল ১৪২ জন। ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ১১১ জন এবং ২৪ শয্যার শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (স্ক্যানো) ৪৫ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছিল। হাসপাতালে ৭১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৬ জন। এর মধ্যে শিশু বিশেষজ্ঞ তিনজন, একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও দুজন মেডিকেল অফিসার। সিনিয়র কনসালটেন্টের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে প্রতি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশেই তাদের অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ৪৮টি শয্যার বিপরীতে ১৭৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডে জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলার বাইশদার এলাকার বাসিন্দা মো. মিয়ার উদ্দিন  বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি নিয়ে চারদিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। শ্বাসকষ্টের কারণে

আমাকে অক্সিজেন নিতে হয়। হাসপাতালে অনেক রোগী। পা ফেলার জায়গা নেই। এখানে রোগীর বিছানা অনেক কম। জায়গা না থাকায় খুব কষ্টে আছি।’

শহরের লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন,  ‘চার বছর বয়সী ছেলেকে হাসপাতালে আনার পর কোনো সিট পাইনি। নিচে বিছানা পেতে থেকে ছেলের চিকিৎসা নিচ্ছি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মাথা ফুলে গিয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে শীত বাড়ার পর থেকেই রোগ বাড়া শুরু হয়েছিল।’

হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেশিরভাগই ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত শিশু। এত রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছরই শীতকালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ বছরও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের জন্য বর্তমানে দুজন মেডিকেল অফিসার ও একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছেন। আমরা চিকিৎসক ও জায়গা দুই সংকটেই ভুগছি। ফলে সেবা দিতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।’





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *