জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পর ওসামান হাদিকে সন্ত্রাসীরা গুলি করার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‌‘সর্বোচ্চ নাজুক অবস্থা’ নির্দেশ করে। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর একটি হোটেলে এনসিপি রংপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, যদি নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এ রকম নাজুক অবস্থা ধরা দেয়; যদি প্রার্থীকে গুলি করা হয়, তাহলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা নানাভাবে ইলেকশনে অংশগ্রহণ করার মতো রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটি বয়ান নিয়ে মাঠে আছেন। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডারা ফেসবুকে নানা ধরনের উৎপাত করছে এবং রাতের আধারে নানা রকম নাশকতার পরিকল্পনা করছে। যারা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, তাদের বিচার খুবই ঢিমেতালে চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যকে ভুল ব্যাখ্যা করে এনসিপি নেতা বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার কারণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে এর দায়ভার নিতে হবে। তাদেরকেই আওয়ামী লীগের যেসব সন্ত্রাসী রয়েছেন, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি দাবি করেন, আমরা শুনেছি এবং বিভিন্নভাবে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, নানা সন্ত্রাসী গ্রুপকে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা সক্রিয় করছে। তারা টার্গেট কিলিং-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে, বিভিন্নজনকে হুমকি দিচ্ছে। তাদের গ্রেফতার না করা হলে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের আমেজ ধরে রাখা সম্ভব হবে না। ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ছেদ তৈরি হবে।

এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোড়ালো দাবি জানান।

আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, তারা সরকারের দীর্ঘ সময় ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা রাজপথে এসেছেন, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করবেন কি না, সেটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তারা যদি আমাদের পার্টির সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাদের সাদরে গ্রহণ করব।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *