ভারত: ১৭৫-৭ (হরমনপ্রীত কৌর ৬৮, অরুন্ধতী রেড্ডী ২৮ নট আউট, কবিশা দিলারি ২-১১, চামারি আতাপাত্তু ২-২১)

শ্রীলঙ্কা: ১৬০-৭ (হাসিনি পেরেরা ৬৫, ইমেশা দুলানি ৫০, অরুন্ধতী রেড্ডী ১-১৬, অমনজোত কৌর ১-১৭)

খবর অনলাইন ডেস্ক: হরমনপ্রীত কৌরের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং শেষের দিকে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ভর করে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের মহিলা টি-২০ সিরিজে সম্পূর্ণ আধিপত্য কায়েম করল ভারত। মঙ্গলবার তিরুঅনন্তপুরমে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টি-২০ ম্যাচে ভারত ১৫ রানে জয় পেয়ে সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয়।

প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ৬৮ রানের লড়াকু ইনিংসই ছিল ভারতের স্কোরের মেরুদণ্ড। জবাবে শ্রীলঙ্কা লড়াই চালালেও ৭ উইকেটে ১৬০ রানের বেশি তুলতে পারেনি। হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানির অর্ধশতরানও সফরকারীদের জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেনি।

এই ম্যাচে আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন দীপ্তি শর্মা। তিনি মহিলা টি-২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেটশিকারি হন – ১৫২টি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেগান শাটকে ছাড়িয়ে যান দীপ্তি। একই সঙ্গে এটি তৃতীয় পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ভারতের হোয়াইটওয়াশে জয়। এর আগে ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল ভারত। ইংল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতই একমাত্র দল, যারা মহিলা টি-২০-তে তিনটি পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫-০ ফল করেছে।

এ দিনের জয়ের কান্ডারি অধিনায়ক হরমনপ্রীত। ছবি ‘এক্স’ থেকে নেওয়া।

হরমনপ্রীতের ব্যাটে ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেল

চতুর্থ ম্যাচের মতো ঝড়ো শুরু এবার হয়নি। পাওয়ারপ্লেতেই ধাক্কা খায় ভারত। ধারাবাহিক ভালো ফর্মে থাকা শেফালী বর্মা মাত্র ৫ রানে আউট হন নিমিশা মীপাগের বলে। স্মৃতি মন্ধানার বদলে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা জি কামালিনি এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন প্রথম বলেই। ৪০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর হারলিন দেওল, রিচা ঘোষ ও দীপ্তি শর্মাও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। নবম ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৬৪/৪, পরে ৭৭/৫—চাপে পড়ে যায় ভারত।

এই পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরেন হরমনপ্রীত। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে তিনি গড়ে তোলেন অনবদ্য এক ইনিংস। ৩৫ বলে নিজের প্রথম টি-২০ অর্ধশতক পূর্ণ করেন (অক্টোবর ২০২৪-এর পর প্রথম)। বিশেষ করে বাঁ-হাতি স্পিনার ইনোকা রানাওয়েরার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন দাপুটে – ১৭ বলে ৩১ রান করেন চারটি চার ও একটি ছক্কায়। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারে আউট হলেও তখন ভারতের স্কোর ১৪২/৭।

নীচের সারির ব্যাটারদের বড়ো অবদান ছিল। অমনজোত কৌর ১৮ বলে ২১ রান করে হরমনপ্রীতের সঙ্গে ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এর পর অরুন্ধতী রেড্ডী ঝড় তোলেন – ১১ বলে অপরাজিত ২৭ রান, চারটি চার ও একটি ছক্কা সহযোগে। শেষ দুই ওভারে ৩২ রান তুলে ভারত পৌঁছোয় ১৭৫/৭-এ।

জয়ের আনন্দ নিয়ে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ২০২৫ সালে শেষ হল। ছবি ‘এক্স’ থেকে নেওয়া।

পেরেরা-দুলানির লড়াই কাজে এল না

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই চামারি আতাপাত্তু আউট হয়ে গেলে চাপ বাড়ে শ্রীলঙ্কার উপর। তবে হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। দুলানি আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলেন, পাওয়ারপ্লেতেই পাঁচটি চার মারেন। দু’জনের ৭৯ রানের জুটি ভাঙে ১২তম ওভারে, যখন অমনজোতের প্রথম বলেই দুলানি ৫০ রানে আউট হন।

পেরেরা লড়াই চালিয়ে যান। ৮৯তম টি-টোয়েন্টিতে এসে নিজের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি, ৩৮ বলে। ৪২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু শেষ দিকে সমীকরণ যখন কঠিন হয়ে ওঠে (২৪ বলে ৫৫ রান), তখন তাঁর আউট হওয়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ডেথ ওভারে ভারতীয় বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ১৩২/৪ থেকে শ্রীলঙ্কা দ্রুত ১৪০/৭ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ১৬০/৭ রানেই থামে। ফলে পুরো সিরিজ জুড়েই জয়হীন থেকে ভারত সফর শেষ করতে হয় শ্রীলঙ্কাকে। স্বাভাবিক ভাবেই হরমনপ্রীত কৌর হলেন ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’। ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ হলেন শেফালী বর্মা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *