হংকং-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল অন্তত ৫৫ জনের, আহত ও নিখোঁজ কয়েকশো। বুধবার দুপুরে তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট নামের উচ্চবহুতল আবাসন কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক টাওয়ারে। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো আবাসন এলাকা। শহরের অন্যতম বৃহৎ অগ্নিকাণ্ড বলে দাবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের।

আগুন লাগার সময় বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেননি অনেকে। যাঁরা বেরোতে পেরেছেন, তাঁদের চোখের সামনে জ্বলতে দেখেছেন নিজেদের ঘরবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা শার্লি চান বলেন, “এক মুহূর্তে দেখা গেল সব শেষ। একটি বাড়ি—যেখান থেকে হাজার স্মৃতি—সব আগুনে পুড়ে ছাই। কী ভাবে বলব, ভাষাই খুঁজে পাচ্ছি না।”

৬৫ বছরের বাসিন্দা ইউয়েন জানিয়েছেন, তিনি ৪০ বছর ধরে সেখানে থাকেন। এলাকাটি মূলত বৃদ্ধ ও অসুস্থদের বাসস্থান। অনেকে হুইলচেয়ার বা ওয়াকার ছাড়া চলতে পারেন না। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে অনেক ফ্ল্যাটের জানালা বন্ধ থাকায় আগুন টের পেতে দেরি হয়েছে। প্রতিবেশীর ফোনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী কোনওরকমে বেরোতে পেরেছেন। “আমি বিধ্বস্ত,” বললেন তিনি।

৭৪ বছরের টং পিংমুন প্রথমে ধোঁয়ার গন্ধ পান। দমকল কর্মী এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে জানান পাশের বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছে। তিনি ভেবেছিলেন তাঁদের ফ্ল্যাটে আগুন পৌঁছবে না। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘন ধোঁয়ার কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বাথরুমে আশ্রয় নেন—ভেজা তোয়ালে দিয়ে দরজার ফাঁক বন্ধ করে ভেন্টিলেশন ফ্যান চালিয়ে সাহায্যের জন্য ফোন করেন। সন্ধ্যা ৬টার সময় উদ্ধারকারীরা তাঁদের বের করে আনেন। “বাঁচাটা ভাগ্যের ব্যাপার,” বলেছেন টং, যিনি বর্তমানে স্থানীয় একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আগুনের তীব্রতার কারণে উদ্ধারকাজ করতে দমকলকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। হংকং ফায়ার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ডেরেক আর্মস্ট্রং চ্যান জানান, “বিল্ডিংয়ের ভিতরের তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে ভেতরে ঢোকাই ছিল কঠিন।”

আগুন লাগে বুধবার দুপুর ২.৫০ নাগাদ। কমপ্লেক্সটিতে মোট আটটি টাওয়ার, প্রায় ২,০০০ ফ্ল্যাট। তখন মেরামতির কাজ চলছিল এবং পুরো ভবন জুড়ে বাঁশের মাচা (স্ক্যাফোল্ডিং) দেওয়া ছিল—যা সহজেই দাহ্য। গত বছরই এমন একটি ঘটনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—মেরামতির কাজের পর অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ ফেলে রাখা হয়েছিল, যেগুলি আগুন ছড়িয়ে পড়াকে আরও দ্রুততর করে। দমকল বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে মৃত ৫৫ জনের মধ্যে একজন ৩৭ বছরের দমকলকর্মীও রয়েছেন, যিনি আগুন নেভাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। ৯০০-র বেশি বাসিন্দাকে বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে এবং তাঁদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরানো হয়েছে। শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকলেও অনেককে পরে নিরাপদে পাওয়া গেছে।

ঘন ধোঁয়া, আগুনের তাণ্ডব এবং মানুষের অসহায়তা—সব মিলিয়ে হংকংয়ের এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ নগর বিপর্যয়।

আরও পড়ুন: ইমরান খানের মৃত্যুর গুজবের মাঝেই বোনেদের উপর পুলিশের ‘নৃশংস হামলার’ অভিযোগ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *