ঢাকা থেকে আল আমিন
প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার স্বামী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। দাফন এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি দেওয়া হবে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-তে দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দুপুর সাড়ে ৩টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফনের স্থানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে নিরাপত্তার কারণে।
‘নন্দিত নেত্রী: খালেদা জিয়া’ শীর্ষক গ্রন্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ির নয়াবস্তি এলাকায় তার জন্ম। দিনটি সম্পর্কে আবদাল আহমেদ লিখেন, ‘তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। নতুন শিশুর আগমনে পরিবারের সবাই আনন্দিত।’
মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল বলা আছে। বিএনপির দলীয় সূত্র ও তার জীবনীগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম। তার ডাকনাম পুতুল। পারিবারিকভাবে তার আরও ডাকনাম ছিল— টিপসি, শান্তি। বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের বন্ধু চিকিৎসক অবনীগুহ নিয়োগী সদ্য প্রসূত কন্যাকে ‘শান্তি’ নামে সম্বোধন করেন। পৃথিবী তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধশেষে মাত্র কয়েক দিনে পড়েছে; দিনকয়েক আগে জাপানে ঘটে গেছে আমেরিকার আণবিক বোমার হত্যাযজ্ঞ। ভারতসহ নানা দিকেই তখন শান্তি মিছিল; মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই নতুন জন্ম নেওয়া শিশুকন্যার নাম হয়ে উঠলো ‘শান্তি’।
পরবর্তী সময়ে মেজো বোন সেলিনা ইসলামের রাখা ‘পুতুল’ নামটিই জড়িয়ে যায় খালেদা জিয়ার ডাকনাম হিসেবে। প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ অবশ্য খালেদা জিয়ার জন্ম দিনাজপুরে হয়েছে বলে তার জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
খালেদা জিয়ার আদিবাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। তার বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন (খুরশিদ জাহান হক চকলেট, সেলিনা ইসলাম বিউটি ও খালেদা খানম পুতুল) ও দুই ভাইয়ের (মেজর সাঈদ ইস্কান্দর ও শামীম ইস্কান্দর) মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। এদের মধ্যে এক বোন সেলিনা রহমান, ভাই শামীম ইস্কান্দর জীবিত আছেন।
তারেক রহমান পিনো ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী খালেদা জিয়া মৃত্যুকালে অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
