স্ত্রীর পরকীয়ায় জীবন দিতে হয়েছে বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামকে (৪৫)। এঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামীমা আক্তার (৩০) ও খালাতো ভাই বিপুলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
বুধবার দুপুরে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার শামিমা আক্তার বগুড়া সদর উপজেলার নূনগোলা ইউনিয়নের শাহীনুর রহমান তালুকদারের মেয়ে। অপর আসামি বিপুল একই ইউনিয়নের অন্তাহার গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। আসামি বিপুল নিহত জহুরুলের খালাতো ভাই ও শামীমার ফুফাতো ভাই।
এর আগে ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদর উপজেলার নূনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদার পাড়ায় বাড়ির সামনে ধানক্ষেত থেকে জহুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর নিহত জহুরুলের মামা এবং আসামি শামিমার বাবা শাহীনুর রহমান তালুকদার বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সদর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর মাহফুজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- শামীমা ও বিপুলের মধ্যে ছোটবেলা থেকে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। এরমাঝে জহুরুলের সাথে শামীমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ে হয়ে গেলেও শামীমা ও বিপুলের সম্পর্ক ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে। বিষয়টি জহুরুল জানতে পারে এবং তা নিয়ে পারবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর শামীমা ও বিপুল দু’জনে পরিকল্পনা করে জহুরুলকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে তারা সুখের সংসার করবে।
ওই দিন রাতে জহুরুলকে দুধের সাথে ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় শামীমা। তারপর রাতে জহুরুল ঘুমিয়ে পড়লে তাকে বিপুল ঘাড়ে তুলে বাহিরে নিয়ে যায় এবং হত্যার পর তাকে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধ ও অবৈধ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে জহুরুলকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য দিকগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
