‘একুশে নভেম্বর’ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে ঐক্য আর ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা মুক্তিকামী আপামর জনতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অপ্রতিরোধ্য আক্রমণের সূচনা করেছিল।

ফলশ্রুতিতে, আমাদের চূড়ান্ত বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি-বাংলাদেশ। এ কারণেই একুশে নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ হিসেবে আমাদের গৌরব ও অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। এই মহান দিনে আমি সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশ ‘বাংলাদেশ। লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন মানচিত্র এবং লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। প্রতি বছর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ‘৭১ এর ভয়াবহ দিনগুলোতে বাঙালি জাতির নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কথা। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁরা মহান স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যুদ্ধাহত হয়েছেন। আমি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেই সকল বীর শহিদদের প্রতি যাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী সময়ে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন । এই মহান দিনে আমি সকল শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে অনন্য ভূমিকা পালন করে জাতির আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েন হয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আমাদের অকুতোভয় বীর সেনানীরা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমে নিজেদের আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও উন্নত পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের সেবায় নিবেদিত থাকতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি অবিচল আস্থা প্রদর্শন ও সেবামূলক সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা প্রদানের জন্য এই সুমহান দিনে আমি দেশের সকল নাগরিককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের সকলের গর্বের প্রাণপ্রিয় সেনাবাহিনী এখন অনেক আধুনিক ও সক্ষম এবং দেশে-বিদেশে একটি দক্ষ, পেশাদার ও অনুকরণীয় বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত। দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে নিজস্ব জনবল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরেই প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সুদক্ষ ও চৌকশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির আস্থার প্রতীক হিসেবে অধিকতর কার্যকরী ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাবে ইনশাআল্লাহ্।

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে মহান এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি এই মহতী উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এ প্রকাশনা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। পরিশেষে, আমি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও সাফল্য কামনা করছি।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের সহায় হোন। আমিন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *