খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারতের পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সংসদে পাশ হয়ে গেল ‘শান্তি বিল’ (সাস্টেনেবল্‌ হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া, Sustainable Harnessing and Advancement of Nuclear Energy for Transforming India, SHANTI)। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে বিলটি গৃহীত হল। এর আগে বুধবার লোকসভায় বিলটি পাশ হয়।

সোমবার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় পরমাণু শক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা এবং বন্ধ করে দেওয়ার (decommissioning) অনুমতি দেওয়া হল। এত দিন এই অধিকার শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও নির্দিষ্ট যৌথ উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

‘শান্তি বিল’ অনুযায়ী, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে বিকিরণ সুরক্ষা সংক্রান্ত অনুমোদনের পর লাইসেন্স নিতে হবে। পাশাপাশি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের উপরে থাকা বিতর্কিত দায়বদ্ধতার ধারা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অপারেটরদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের সীমা যুক্তিসঙ্গতভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিলটির লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সেই উদ্দেশ্যে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংক্রান্ত বিবৃতিতে ‘বাস্তবসম্মত অসামরিক পারমাণবিক দায়বদ্ধতা ব্যবস্থার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত পেটেন্ট প্রদানের জন্য পেটেন্ট আইন, ১৯৭০ সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

এই আইনের মাধ্যমে ১৯৬২ সালের পরমাণু শক্তি আইন এবং ২০১০ সালের পরমাণু ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত নাগরিক দায়বদ্ধতা আইন (সিভিল লায়াবিলিটি ফর নিউক্লিয়ার ড্যামেজ, সিএলএনডি, CLND) বাতিল করা হবে। সিএলএনডি আইনের একটি বিতর্কিত ধারা সম্পূর্ণভাবে অপসারণের কথাও বলা হয়েছে।

বিলটি পাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে ভারতের প্রযুক্তি ও শক্তি ক্ষেত্রে ‘রূপান্তরমূলক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। সংসদের সদস্যদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইন ‘নিরাপদভাবে এআই চালিত পরিকাঠামোকে শক্তি জোগাবে’ এবং সবুজ উৎপাদন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করবে।

এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিল দেশ ও বিশ্বের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন শক্তি-ভবিষ্যতের পথে দৃঢ় পদক্ষেপ। বেসরকারি ক্ষেত্র এবং যুবসমাজের জন্য এটি অসংখ্য সুযোগ খুলে দিচ্ছে। ভারতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও নির্মাণের এটাই আদর্শ সময়।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *