শৃঙ্খলাজনিত একাধিক ঘটনার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের ওপর মধ্যরাতের কারফিউ আরোপ করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সফর এবং আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতিদিন রাত ১২টার মধ্যে দলের হোটেলে ফিরে আসতে হবে ক্রিকেটারদের—আগাম অনুমতি ছাড়া এই সময়সীমা ভাঙা যাবে না।

ডেইলি মেইল স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালজুড়ে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। যদিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ (২২ জানুয়ারি থেকে ৬ ওয়ানডে ও টি২০) ও বিশ্বকাপের জন্য আলাদা করে আনুষ্ঠানিক আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়নি, তবে কলম্বোয় পৌঁছানোর পর খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ হিসেবে দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ড দলের একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা বোর্ডকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে। নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজে ৩–০ হোয়াইটওয়াশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে ৪–১ ব্যবধানে হার—এই দুই সফরেই অতিরিক্ত মদ্যপান ও রাতভর বাইরে থাকার অভিযোগ ওঠে।

অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ চলাকালে নুসায় ছয় দিনের বিরতিতে কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বেন ডাকেট গভীর রাতে বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। পাশাপাশি পার্থে অবস্থানকালে ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দের উচ্চমাত্রার মদ্যপানের খবরও প্রকাশ পায়।

এর আগে নিউজিল্যান্ড সফরে নাইটক্লাবের এক বাউন্সারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর ঘটনায় অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়। এমনকি সাদা বলের অধিনায়কত্ব হারানোরও ঝুঁকিতে পড়েছিলেন তিনি। যদিও ব্রুক নিজেই বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটে কারফিউ নতুন নয়। ২০১৭–১৮ মৌসুমে জনি বেয়ারস্টোর এক বিতর্কিত ঘটনায় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রস এই নিয়ম চালু করেছিলেন। তবে পরে বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথা বিবেচনা করে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই সিদ্ধান্ত যে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, তা মানছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহল।

ফলাফলের দিক থেকেও চাপের মধ্যে রয়েছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও মাঠের পারফরম্যান্স উন্নত করার লক্ষ্যেই এই কড়াকড়ি। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা সফর ও বিশ্বকাপের জন্য কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। টি–টোয়েন্টি দলে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে ফিরছেন কার্ল হপকিনসন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে একাই ১৭টি ক্যাচ পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ইংল্যান্ড।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *