নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের আবহে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য রোধে ইউজিসি-র (UGC) প্রণীত নতুন নির্দেশিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই বিধি কার্যকর হলে সমাজে বিভাজন আরও বাড়তে পারে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২০১২ সালের পুরনো বিধিনিয়মই বহাল থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে ইউজিসি-র ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন্স, ২০২৬’ বিধিমালা নিয়ে শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা এমন সমাজের দিকে এগোচ্ছি যা উল্টো পথে হাঁটছে? বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের সব অর্জন কি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে?” আদালতের আশঙ্কা, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করলে শিক্ষাঙ্গনের প্রগতিশীল পরিবেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি এই নতুন বিধি প্রকাশ করেছিল। যেখানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপারচুনিটি সেন্টার’ ও ‘ইকুইটি কমিটি’ গঠন এবং ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়ম না মানলে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের মতো কড়া শাস্তির সংস্থানও ছিল। কিন্তু এই বিধি প্রকাশ হতেই অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এই নিয়ম পক্ষপাতদুষ্ট এবং এতে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়নি, যা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন বিধির ভাষাগত অস্পষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দুই বিচারপতির নির্দেশ, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে এই পুরো বিধিমালাটি পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। সেই রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নতুন নিয়ম কার্যকর করা যাবে না। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তিতে উচ্চবর্ণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়ারা।
