খবর অনলাইন ডেস্ক: সংসদের দুই কক্ষেই পাস হওয়া ‘শান্তি বিল’ (সাস্টেনেবল্‌ হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া, Sustainable Harnessing and Advancement of Nuclear Energy for Transforming India, SHANTI) অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাল দেশের শীর্ষ ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সংগঠনগুলি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি অব ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (এনসিসিওইইই, NCCOEEE), ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের মঞ্চ এবং সংযুক্ত কিসান মোর্চা (এসকেএম, SKM) অভিযোগ করেছে যে এই বিল ভারতের পরমাণু শক্তিক্ষেত্রে গড়ে তোলা নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতার কাঠামোকে ভেঙে দেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে পরমাণু শক্তি আইন (Atomic Energy Act) চালু আছে, তা অসামরিক পরমাণু কার্যক্রমে কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করত, কারণ এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কৌশলগত ও বিপর্যয়কর ঝুঁকি। কিন্তু নতুন ‘শান্তি বিল’ সেই ব্যবস্থাকে সরিয়ে মুনাফাভিত্তিক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থার জন্য পরমাণু শক্তিক্ষেত্র খুলে দিচ্ছে। এর ফলে ঝুঁকির ভার সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের ও দেশের ওপর চাপানো হবে বলে দাবি সংগঠনগুলির।

ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই বিল কার্যত পরমাণু শক্তিক্ষেত্রের বেসরকারিকরণকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করবে। তারা একে ‘ড্রাকোনিয়ান’ বা দমনমূলক আইন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এর প্রতিবাদে আগামী ২৩ ডিসেম্বর দেশ জুড়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ও গ্রামে গ্রামে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।

একই সঙ্গে সংগঠনগুলি বিদ্যুৎক্ষেত্রের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধেও দেশব্যাপী যৌথ আন্দোলন চালাচ্ছে। আগামী বছরে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে খসড়া বিদ্যুৎ (সংশোধন) বিল, ২০২৫-এর বিরোধিতায় প্রচার কর্মসূচি চলবে বলে তারা জানিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—পরমাণু শক্তি আইন ও পরমাণু ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত নাগরিক দায়বদ্ধতা আইনে (সিভিল লায়াবিলিটি ফর নিউক্লিয়ার ড্যামেজ, সিএলএনডি, CLND) প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রত্যাহার, প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে সব ধরনের বেসরকারিকরণ বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল বাতিল করা (বিশেষত চণ্ডীগড়, দিল্লি ও ওড়িশায়), উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার বেসরকারিকরণ প্রচেষ্টা বন্ধ করা এবং কঠোর দায়বদ্ধতা ও স্বতন্ত্র পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন।

সংগঠনগুলির দাবি, পরমাণু শক্তিক্ষেত্রের কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক দিকগুলিতে সংসদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং পরিবেশ ও শ্রমিক সুরক্ষা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

সংসদে পাশ ‘শান্তি বিল’: ভারতে বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে গেল পরমাণু বিদ্যুৎক্ষেত্র



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *