মোবাইল ফোনের আবদার মেটাতে পারেননি স্বজন। আর সেই অভিমানেই চরম পথ বেছে নিল দুই কিশোরী। উত্তর জনপদের ঠাকুরগাঁওয়ে চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া পৃথক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঘটনা দুটি ঘটেছে।

পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম তানিয়া সুলতানা (১৫) ও হুমায়রা আক্তার (১৫)। দু’জনেই মোবাইল ফোন না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান।
​প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে সদর থানার চিলারং ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশগড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোফায়েল হোসেনের মেয়ে তানিয়া বেশ কিছু দিন ধরেই বাবার কাছে একটি মোবাইল ফোনের বায়না করছিল। পেশায় শ্রমিক তোফায়েল মেয়ের সেই আবদার তৎক্ষণাৎ পূরণ করতে পারেননি। শনিবার দুপুরে বাড়ির মানুষের অনুপস্থিতিতে নিজের ঘরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় তানিয়া।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে মোবাইল না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা। একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

​অন্যদিকে, শহরের প্রাণকেন্দ্র হাজীপাড়া এলাকায় আর এক কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত হুমায়রা আক্তার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা-মা দুজনেই কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। চাচার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত হুমায়রা।

পরিবার সূত্রে খবর, বেশ কয়েক দিন ধরে বাবার কাছে মোবাইল কেনার জেদ ধরেছিল সে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে বাবা তা কিনে দিতে পারেননি।
​শুক্রবার রাতে তার চাচাতো ভাই ফেরদৌস হাসান অন্তর বোনকে খাবারের জন্য ডাকতে গিয়ে দেখেন, ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকিতেও সাড়া না মেলায় দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই আঁতকে ওঠেন তিনি। প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে ওই কিশোরী।

​সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, বাবার ওপর অভিমান করেই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের দাবি। আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *