লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ছবি শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে ঠিক ভাবে দেখতে না পাওয়ার ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফুটবলপ্রেমীরা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুড়ে মারা হয়, শুরু হয় বোতল ছোড়া, এমনকি ফেন্সিং ভেঙে কয়েক শো মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

শনিবার সকাল ঠিক ১১টা ৩০ মিনিটে যুবভারতীর মাঠে ঢোকে লিয়োনেল মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইন্টার মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ় ও আর্জেন্টিনার ফুটবলার রদ্রিগো ডি’পল। মাঠে পৌঁছে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখালেও গাড়ি থেকে নামার পরই ভিড় তাঁকে ঘিরে ধরে। মন্ত্রী, প্রশাসনিক কর্তা ও আমন্ত্রিতদের ভিড়ে কার্যত আটকে পড়েন মেসি। প্রায় ২০ মিনিট ধরে গ্যালারি থেকে এক বারও তাঁকে দেখা যায়নি। তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। শুরু হয় ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান।

মাঠে পৌঁছনোর পর অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষ মেসিকে ঘিরে ধরেন। অনেকেই এতটাই কাছে দাঁড়িয়েছিলেন যে, হাঁটার জায়গাটুকুও পাচ্ছিলেন না তিনি। ক্যামেরা ও মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ঘিরে রাখলেও আয়োজকদের বারবার ভিড় সরানোর অনুরোধ করতে হয়। টিকিট কেটে মাঠে আসা দর্শকদের ভরসা ছিল স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন। কিন্তু সেখানেও মেসিকে স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়নি। মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয়ের সময়ও ভিড় তাঁকে ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে মাইক্রোফোনে বারবার ঘোষণা করতে হয়, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

১১টা ৫২ মিনিটে মেসিকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মাঠে এসে পৌঁছোননি। মেসি বেরিয়ে যেতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। মোটা টাকায় টিকিট কেটে এসেও প্রিয় ফুটবলারকে না দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকেরা গ্যালারিতে লাগানো হোর্ডিং ভাঙতে শুরু করেন। এরপর গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ছোড়া হয়। বোতল উড়ে আসে মাঠে। সেই মুহূর্তে গ্যালারিতে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী ছিলেন না বলেই প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এক সময় মাঠের ধারের ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে হু-হু করে মাঠে ঢুকে পড়েন দর্শকেরা। প্রথমে পুলিশ কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে। পরে লাঠিচার্জ করে ক্ষুব্ধ জনতাকে গ্যালারিতে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফের মাঠে নেমে আসেন অনেকে। সব মিলিয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অন্তত হাজার দুয়েক মানুষ মাঠের দখল নিয়ে নেন। কেউ ডিগবাজি খেয়েছেন, কেউ নিজস্বী তুলেছেন, কেউ আবার লাফিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন—মাঠে কার্যত যে যা খুশি করেছেন।

ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য নেতা-মন্ত্রী ও বিশেষ অতিথিরা। তাঁদের অভিযোগ, মাঠের মাঝখানে ৭০-৮০ জন প্রভাবশালী মানুষ মেসিকে ঘিরে রাখায় গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা যায়নি। দর্শকদের দাবি, ফাঁকা মাঠে কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে মিনিট পাঁচেক মাঠ ঘুরলেই সকলেই মেসিকে ভাল করে দেখতে পেতেন। কিন্তু সেই ন্যূনতম ব্যবস্থাও করা হয়নি। চড়া দামে টিকিট কেটে এসেও প্রিয় ফুটবলারের এক ঝলক না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই এই বিস্ফোরণ—এমনটাই মত ফুটবলপ্রেমীদের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *