পশ্চিমবঙ্গের ২,২০৮টি ভোটদান কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে নয়া চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন এই সব বুথে যে এনুমারেশন ফর্মগুলি বিতরণ করা হয়েছিল, তার প্রতিটিই পূর্ণ অবস্থায় ফেরত এসেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে নাকি একটিও মৃত, নকল বা খুঁজে না পাওয়া ভোটার নেই—এই দাবি কমিশন স্বাভাবিক বলে মনে করছে না। নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ সূত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, এমন তথ্য বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না বলেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। এখন এই সব বুথ নজরদারির আওতায়।

এই ২,২০৮ বুথের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়—৭৬০টি। পুরুলিয়ায় ২২৮টি এবং মুর্শিদাবাদে ২২৬টি বুথ এই তালিকায়। হাওড়ায় রয়েছে ৯৪টি সন্দেহজনক বুথ, আর কলকাতায় মাত্র একটি। রাজ্যজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৭৮ হাজার বুথ রয়েছে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ছড়িয়ে।

একই সময়ে SIR প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে কমিশন জানিয়েছে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৭,৬৫,৬২,৪৮৬টি এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ হয়েছে, যা মোট ভোটারের ৯৯.৯০ শতাংশ। বিতরণ ও সংগ্রহ করা ফর্মের মধ্যে ৭,৩৮,৫৭,০২৩টি ইতিমধ্যেই ডিজিটালভাবে আপলোড করা হয়েছে—যা মোটের ৯৬.৩৭ শতাংশ।

বিরোধী দলের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অতিরিক্ত চাপের কথা বিবেচনা করে কমিশন রবিবার ঘোষণা করে যে, এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ ও আপলোডের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর করা হচ্ছে। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে ১৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে (আগে ছিল ৯ ডিসেম্বর)। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশও পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ করা হয়েছে (আগের তারিখ ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি)। কমিশন জানিয়েছে, অতিরিক্ত চাপের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯টি রাজ্য এবং ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR-এর সময়সীমা এক সপ্তাহ করে বাড়ানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ২,২০৮ বুথে শতভাগ ফর্ম পূরণ পাওয়া যাওয়াকে কমিশন অস্বাভাবিক বলে মনে করছে। সাধারণত প্রত্যেক বুথে কিছু মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার বা নকল নাম থাকেই। তাই এ ধরনের শূন্য–ত্রুটিযুক্ত বুথের অস্তিত্ব প্রশ্ন তৈরি করেছে। কমিশন এদের এখন ‘স্ক্যানারে’ রেখে তদন্ত শুরু করেছে।

SIR–কে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক, মাঠপর্যায়ে অভিযোগ, আত্মহত্যা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই এই নতুন তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাজের ওপর আরও এক স্তরের নজর বাড়াল।

আরও পড়ুন: ভোটারদের নাম–পরিচয় বদলে গেছে! ফের যাচাইয়ের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *