বিমান দুর্ঘটনায় একাধিক বার ভারতে শীর্ষ রাজনীতিকদের মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুর খবর ঘটেছে। মহারাষ্ট্রর উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মতো গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী, সঞ্জয় গান্ধী, মাধবরাও সিন্ধিয়া, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি, লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বালযোগী, প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত প্রাণ হারান বিমান দুর্ঘটনায়। কিন্তু ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েও বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে যান মোরারজী দেশাই। সে সময় তিনি দেশের প্রশাসনিক প্রধান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
দিনটা ছিল ১৯৭৭ সালের ৪ নভেম্বর। সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে অসমের জোরহাট যাচ্ছিলেন মোরারজী দেশাই। রুশ বিমান Tu-124 এ চেপে যাচ্ছিলেন তিনি। দিল্লি থেকে জোরহাটের দূরত্ব ছিল ১৬৮৫ কিমি। জোরহাটে যখন বিমান চালক বিমান নামাতে যান সে সময় মেঘলা ছিল আকাশ, চাঁদের দেখা মেলেনি। অন্ধকার ছিল চারপাশ। বিমানের জ্বালানি কম ছিল। বিমান অবতরণের সময় আচমকা বিমানের গতিবেগ বেড়ে যায়। রানওয়ে দেখতে পাননি বিমান চালক। প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় বার রানওয়ে ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে বিমানটির সামনের দিকে ধাক্কা মারে গাছে। ধাক্কার অভিঘাতে বিমানের বাঁদিকে চিড় ধরে। ককপিট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বাকি বিমান থেকে। ২ জন চালক ও ৩ ক্রু মেম্বার বিমান থেকে ছিটকে বাইরে গিয়ে পড়েন। ৫ জনই প্রাণ হারান। ককপিটবিহীন বিমান তখনো আকাশে।
ধান ক্ষেতের পাশে বাঁশগাছে গিয়ে আটকে যায় বিমান। বাঁশগাছ আটকে দেয় বিমানটিকে। ধীরে ধীরে গতি বন্ধ হয়ে যায়। বিমানের ডানদিকে বসে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই। ৮১ বছরের মোরারজী দেশাই একেবারে অক্ষত ছিলেন। তিনি শান্ত ছিলেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন কংগ্রেস নেতা পি কে থাংগন, আইবি আধিকারিক, মোরারজীর ছেলে কান্তিভাই ও সমাজকর্মী নারায়ণ দেশাই। বিমানে থাকা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পি কে রবীন্দ্রণ ও কর্পোরাল কে এন উপাধ্যায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই ও বাকিদের বের করে আনেন। রাতে জোরহাট বায়ুসেনার হাসপাতালে ছিলেন মোরারজী দেশাই।
আরও পড়ুন: প্রচার সেরে ফেরার পথেই চিরবিদায়! কীভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল অজিত পওয়ারের বিমান? রইল বিস্তারিত
