পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট-এ গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে উঠে এল বড় তথ্য। বাদ পড়া প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও তালিকায় ফিরতে পারেননি বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্যাম দিবান আদালতে জানান, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ৬০ লক্ষেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি করেছেন। এর মধ্যে ৪০ লক্ষ মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—প্রায় ৫৫ শতাংশ বা ২৪ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর প্রায় ৪৫ শতাংশ বা ২০ লক্ষ নাম বাদই থেকে গিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী ইতিমধ্যেই আপিল করেছেন—প্রায় ৭ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে এবং আরও কয়েক লক্ষ আপিল জমা পড়ার পথে। তবে এখনও আপিল ট্রাইবুনালগুলি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বল প্রস্তাব দেন, যাঁদের প্রাথমিকভাবে ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তাঁদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, আসন্ন নির্বাচন মাথায় রেখে ভোটার তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আপিল প্রক্রিয়াকে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিরা রয়েছেন, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের উপরই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সব ট্রাইবুনালের জন্য একক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতিকে তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র বিচারপতিকে নিয়ে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে আরও জানা যায়, সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫৯.১৫ লক্ষ আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। মালদহে ৮ লক্ষ আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সব মামলার নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
তবে ডিজিটাল সিগনেচার আপলোডে সমস্যার কারণে কিছু ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, যাঁদের আবেদন খারিজ হয়েছে, তাঁদের অনেকেই কারণ জানতে পারছেন না—এই বিষয়েও আদালত গুরুত্ব দিয়েছে।
আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আপিল ট্রাইবুনালগুলি চাইলে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দেওয়া কারণ-সহ সমস্ত নথি পুনরায় খতিয়ে দেখে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, তেমনই দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইবুনালের উপরই আস্থা রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।
