অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের অগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই ভোটগ্রহণ হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার-র দল আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ভোট চলাকালীন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে “অবৈধ” ও “প্রহসন” বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, “জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ভোটের আগের দিন থেকেই কেন্দ্র দখল, গুলিচালনা, অর্থ বিতরণ ও ব্যালটে সিল মারার মতো অনিয়ম শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ ভোটার ভোট দেন, যা অত্যন্ত কম। রাজধানী ঢাকা-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
Gratitude from the People’s Leader Sheikh Hasina to All Citizens, Including Mothers, Sisters, and Minority Communities, for Rejecting the Farcical Election of the Murderous-Fascist Yunus
—
Today’s so-called election by Yunus, who seized power illegally and unconstitutionally,… pic.twitter.com/bPmR2z5Fc1— Bangladesh Awami League (@albd1971) February 12, 2026
– বিজ্ঞাপন –
আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন হাসিনা। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিবৃতির শেষে শেখ হাসিনা ভোট বাতিল, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধানের পদত্যাগ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।
নির্বাচনের দিন বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ভোটের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পরিবর্তে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা।
জাতিকে অভিনন্দন জানালেন মুহাম্মদ ইউনূস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেছে—গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট।” তাঁর মতে, জনগণ সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
অধ্যাপক ইউনূস নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বৃহৎ গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের গণতান্ত্রিক শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।
ইউনূস দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে এ নির্বাচন অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এই ধারা বজায় থাকলে গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
