ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনার পর সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য “একটি বিপজ্জনক নজির” বলে মন্তব্য করেছেন।

রোববার ৪ জানুয়ারি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে কলম্বিয়া ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এর আগেও অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দু’দফা নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেন, একটি নিরাপদ, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করবে। তবে কীভাবে এবং কোন কাঠামোর মাধ্যমে এই তত্ত্বাবধান পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, এটি একটি “ঔপনিবেশিক যুদ্ধ”। তার ভাষায়, এই হামলার লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রজাতন্ত্রী সরকারকে ধ্বংস করে একটি পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যাতে বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদসহ দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করা যায়।

মনকাদা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘ সনদের বিধান অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি বা বলপ্রয়োগ থেকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে বিরত থাকতে হয়।

এদিকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, রাতারাতি চালানো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ একটি “বিপজ্জনক নজির” সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, মহাসচিব আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন এবং এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার উপকূল এবং ল্যাটিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযান লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় সব জাহাজ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত মাসে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি ট্যাংকার আটক করা হয়।

অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তাদের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, এটি ন্যায়বিচার। তিনি আরও দাবি করেন, নিকোলাস মাদুরো একজন অবৈধ স্বৈরশাসক এবং একটি ঘোষিত মাদক-সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা মার্কিন নাগরিক হত্যার জন্য দায়ী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *