ভারত: ২৩১-৫ (তিলক বর্মা ৭৩, হার্দিক পাণ্ড্য ৬৩, করবিন বোশ ২-৪৪, ওটনিল বার্টম্যান ১-৩৯)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০১-৮ (কুইন্টন ডি কক ৬৫, ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ৩১, বরুণ চক্রবর্তী ৪-৫৩, জসপ্রীত বুমরাহ ২-১৭)   

খবর অনলাইন ডেস্ক: অহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রদর্শনীতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩০ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত। চতুর্থ ম্যাচ কুয়াশার কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় এই ম্যাচটিই সিরিজ নির্ধারণকারী হয়ে ওঠে, আর সেই চাপ সামলাতে কোনো ভুল করেনি বিশ্বের এক নম্বর টি২০ ক্রিকেট দল।

ইনিংসের ভিত গড়লেন অভিষেক, সাথি সঞ্জু  

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত তোলে বিশাল রান – ৫ উইকেটে ২৩১। শুরুতেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন অভিষেক শর্মা। ২১ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে তিনি ইনিংসের ভিত গড়ে দিলেন। ২০২৫ সালে তাঁর মোট রান দাঁড়াল ১৬০২— বিরাট কোহলির এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি রানের রেকর্ড ভাঙার থেকে মাত্র ১২ রান দূরে থেকে গেলেন অভিষেক।

চোটগ্রস্ত শুভমন গিলের জায়গায় দলে ঢুকে সঞ্জু স্যামসনও সুযোগ কাজে লাগান। ২২ বলে ৩৭ রান করে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। এর পর তিলক বর্মা দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস সামলান। সূর্যকুমার যাদব আবার ব্যর্থ হয়ে ৫ রানে আউট হলেও তিলক (৪২ বলে ৭৩ রান) ও হার্দিক পাণ্ড্যর জুটিতে মাঝের ও শেষের ওভারগুলোয় ম্যাচ কার্যত ভারতের দখলে চলে যায়।

সবচেয়ে বেশি রান এল তিলক বর্মার ব্যাট থেকে। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

হার্দিক পাণ্ড্যর ব্যাটিং ছিল চোখধাঁধানো। মাত্র ১৬ বলে অর্ধশত রান পূর্ণ করে তিনি ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম টি-টোয়েন্টি অর্ধশতরানের রেকর্ড গড়েন। ২৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২৫২, ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও পাঁচটি চার। শেষ দিকে শিবম দুবের ৩ বলে অপরাজিত ১০ রান ভারতকে ২৩০-এর গণ্ডি পেরোতে সাহায্য করে। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে করবিন বোশ ৪৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট দখল করে দলের সেরা বোলার হন।

‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হার্দিক পাণ্ড্য

২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুটা ভালোই করে। কুইন্টন ডি কক আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাট করে ৩৫ বলে ৬৫ রান করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৬৭ রান। রিজা হেনড্রিক্স আউট হওয়ার পর ডি ককের সঙ্গে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস দ্রুত ৫০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। তবে দু’জনই পরপর আউট হতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

সবচেয়ে বেশি উইকেট নিলেন বরুণ চক্রবর্তী।ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

এর পর বল হাতে মূল ভূমিকা নেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনি আইডেন মার্করামকে এলবিডব্লিউ করেন, ডোনোভান ফেরেইরাকে বোল্ড করেন এবং জর্জ লিন্ডেকে গুগলিতে ফিরিয়ে দেন। বরুণ ৫৩ রানে ৪ উইকেট দখল করেন। সাময়িকভাবে মার্কো ইয়ানসেন লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও জসপ্রীত বুমরাহ ফিরে এসে সেই আশা শেষ করে দেন। বুমরাহ ১৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের গতি থামিয়ে দেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ৮ উইকেটে ২০১ রান। ২৫ বলে ৬৩ রান করে এবং ৪১ রানে ১টি উইকেট নিয়ে এ দিন ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হন হার্দিক পাণ্ড্য।

‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ বরুণ চক্রবর্তী

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে কটকে প্রথম ম্যাচে ১০১ রানের বড়ো জয় পায় সূর্যকুমারের দল। এর পর নিউ চণ্ডীগড়ে ৫১ রানে হার। ফলে সিরিজ ১-১ হয়ে যায়। ধরমশালায় তৃতীয় ম্যাচে জয়ে ফেরে ভারত। সাত উইকেটে সাফল্যের পর সিরিজ ২-১ হয় ভারতের পক্ষে। এর পর ধোঁয়াশা-দূষণের জন্য লখনউয়ে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ফলে ভারত এটুকু নিশ্চিন্ত হয় যে সিরিজ অন্তত হাতছাড়া হবে না। শেষপর্যন্ত অহমদাবাদে পঞ্চম ম্যাচে ৩০ রানে জিতে ভারত ৩-১ ফলে সিরিজ করায়ত্ত করল। ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ হলেন বরুণ চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন

ধোঁয়াশার জেরে একটা বলও গড়াল না লখনউয়ে ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে, বিসিসিআইয়ের সূচি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ধরমশালার ঠান্ডায় আগুন ঝরাল ভারত, সাত উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল সূর্যবাহিনী

মুল্লানপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫১ রানে লজ্জার হার, কোচ গম্ভীর–সিনিয়রদের ব্যর্থতায় প্রশ্নে ভারত

টি২০ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বনিম্ন স্কোর, হার্দিকের ব্যাট আর অক্ষর-অর্শদীপ-জসপ্রীত-বরুণের বলে শোচনীয় হার



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *