নয়াদিল্লি: নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বা ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এবং তার মূল সংস্থা মেটাকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো বহুজাতিক সংস্থার ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ভারতের নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করবে আদালত।
টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা আপনাদের একবিন্দু তথ্যও শেয়ার করতে দেব না। দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না।” উল্লেখ্য, ওটিটি মেসেজিং মার্কেটে আধিপত্যের অপব্যবহার করার অভিযোগে কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (CCI) মেটাকে ২১৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। সেই জরিমানার বিরুদ্ধে মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে এই মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
আদালতে হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, ব্যবহারকারীদের কাছে তথ্য শেয়ার না করার বা ‘অপট-আউট’ (Opt-out) করার বিকল্প রয়েছে। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ যে ভাষায় শর্তাবলী লেখে তা অত্যন্ত চতুরভাবে সাজানো, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব। এমনকি বিচারপতি জে বাগচী প্রশ্ন তোলেন, অ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ পাঠালেও অপট-আউট করার বিকল্প কেন সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের নজরে পড়ে না?
– বিজ্ঞাপন –
শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের সম্মতি বা ‘কনসেন্ট’-এর নামে যেভাবে তথ্য নেওয়া হচ্ছে, তা আসলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির এক মার্জিত উপায় মাত্র। সলিসিটর জেনারেলও আদালতে জানান, ব্যবহারকারীদের সামনে আসলে ‘মানলে মানো নয়তো ছাড়ো’ (Take it or leave it) এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সব মিলিয়ে, সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট কী চূড়ান্ত রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।
