হামিংবার্ড বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পাখি। এই পাখির জন্ম একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায়। যার সূচনা হয়েছিল প্রায় ৪৭ মিলিয়ন বছর আগে। প্রায় ৩ কোটি বছর আগে তারা আধুনিক হামিংবার্ডের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। বর্তমানে হামিংবার্ডের প্রায় ৩৬১টি প্রজাতি রয়েছে। এরা বেশিরভাগই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। অবাক বিষয় হচ্ছে, এই পাখি বাতাসে এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারে। এদের বেশিরভাগ প্রজাতির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। হামিংবার্ড শুধু উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকাতেই পাওয়া যায়। এদের সবচেয়ে ছোট প্রজাতি হলো মৌমাছি হামিংবার্ড। যার ওজন মাত্র ২ গ্রামের মতো। এই হামিংবার্ডই বিশ্বের একমাত্র পাখি, যারা পেছন দিকেও উড়তে পারে। এই পাখির ডানা প্রতি সেকেন্ডে ৫০ থেকে ৮০ বার পর্যন্ত ঝাপটাতে পারে। আবার পালকগুলো উজ্জ্বল এবং বৈচিত্র্যময় রঙের। হামিংবার্ডের বিপাক ক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত। এদের হৃৎস্পন্দন বিশ্রামরত অবস্থায় প্রতি মিনিটে ২৫০ থেকে ১২০০ বার পর্যন্ত হতে পারে। ‘কিউবান বি’ প্রজাতির হামিংবার্ড আকৃতিতে খুবই ছোট হলেও শরৎ এবং বসন্তকালীন পরিযাত্রায় এরা মেক্সিকো উপসাগর পাড়ি দেয়। অবাক বিষয় হচ্ছে, একটি হামিংবার্ডের দেহে ৯০০টি পালক থাকে। এই পাখিটি মিনিটে ২৫০ বার শ্বাস নেয় এবং ওড়ার সময় তা আরও বেড়ে যায়। আর এদের হৃৎস্পন্দনের হার মিনিটে ১২০০ বিট। সাধারণত মধুপায়ী মনে করা হলেও, ৮৫-৯০ শতাংশ হামিংবার্ড ফুলের মধ্যে বাস করা ছোট ছোট পোকা খায়। তাদের আয়ুষ্কাল ৩-৫ বছর।
