শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই SIR-কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ। বিরোধীরা বারবার দাবি জানাচ্ছেন—তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আলোচনায় আপত্তি নেই, তবে কোনওভাবেই বিরোধীদের চাপিয়ে দেওয়া সময়সীমা মানা হবে না। এই অবস্থানেই মঙ্গলবার ফের মুখোমুখি হল দুই পক্ষ।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়ে দেন, SIR এখন জাতীয় ইস্যু, কারণ এই প্রক্রিয়ার কাজে অত্যধিক চাপের ফলে বহু বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা দেশের নাগরিকদের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে জরুরি আলোচনা। সরকারকে এখনই এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় আসতে হবে।”
এর জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাফ জানান—সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু কোনও সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, “অনুগ্রহ করে সময়সীমা নির্ধারণ করবেন না। আমরা সব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বার করব। সংসদীয় গণতন্ত্র মানে আলোচনার মাধ্যমেই এগোনো।”
সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডাও জানান, খুব শীঘ্রই বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আলোচনার সময় নিয়ে।
কিন্তু বিরোধী শিবির সরকারের অবস্থানে ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যেই ২৮ জন BLO-র মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপে। ফলে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া অমানবিক। খাড়গে অভিযোগ করেন, “Rule 267 অনুযায়ী যে নোটিস দিয়েছি, সেগুলো কেন বাতিল হল, কেন তালিকাভুক্ত হল না—তার কোনও ব্যাখ্যা চেয়ারম্যান দেননি। এইভাবে সংসদীয় রীতি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”
মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিএম, সিপিআই, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা একযোগে SIR নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এই অচলাবস্থার জেরেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় বারবার মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, রিজিজুর সঙ্গে বিরোধী সাংসদদের একটি বৈঠক হয় দুপুর ১২.৩০টায়। বৈঠকের পরে বিরোধীদের তরফে জানানো হয়—সরকারকে দুপুর ২টার মধ্যে স্পষ্ট ঘোষণা করতে বলা হয়েছে যে আগামী দুই দিনের মধ্যে দুই কক্ষেই SIR নিয়ে আলোচনা হবে। তৃণমূলের উপনেত্রী সাগরিকা ঘোষ বলেন, “দেশ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। BLO-দের মৃত্যু, সাধারণ মানুষের মৃত্যু—এগুলো নিয়ে আলোচনার সময় এখনই। বিলম্ব মানা যাবে না। সরকারকে আজই অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।”
রিজিজু আবারও রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেন—সরকার আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণা ভুল। তবে আলোচনা হবে কার্য পরামর্শদাতা কমিটির (BAC) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। তাঁর বক্তব্য, “বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অপেক্ষায় আছে। তাই আলোচনা কখন হবে, তা এখনই বলা যাবে না।”
সরকারের আরেকটি যুক্তি—SIR হল নির্বাচন কমিশনের কাজ, যা একটি স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা। সংসদ তার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারে না।
অন্যদিকে লোকসভাতেও দ্বিতীয় দিনের মতো অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধীদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে কক্ষ। স্পিকার ওম বিড়লা অতিথি হিসেবে উপস্থিত জর্জিয়ার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানোর পর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করেন। কিন্তু বিরোধীদের প্রতিবাদে অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
শীতকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই কার্যত অচল অচল পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে SIR—যা ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
