বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারসহ ৪৮ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য
কমিশনের সুপারিশ নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই আজ সরকারের দিক থেকে
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার
প্রেস উইং।
সরকারের দিক থেকে বক্তব্য আসার পর তা পর্যালোচনা করে বিকেলেই সংবাদ সম্মেলনের
মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে বিএনপি। এর আগে বেলা সাড়ে বারটায় ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৮শে অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে
সেই সম্পর্কে সুপারিশ প্রকাশের পর তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিএনপি।
দলটির অভিযোগ, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যেসব বিষয়ে আলোচনা করে একমত
হয়েছিলো সেগুলোর অনেক কিছু যথাযথভাবে সুপারিশে আসেনি । এছাড়া আলোচনা হয়নি এমন কিছু
বিষয়ও সুপারিশে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির নেতারা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই সুপারিশের মাধ্যমে কমিশন বিএনপি
ও জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
মূলত, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ কিছু বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, “নির্বাচনের দিনসহ তার আগে যেকোনো দিন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ–এর ওপর
গণভোটের আয়োজন করতে পারে”।
তবে বিএনপি চাইছে সংসদ নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোট আয়োজন করা হোক। অন্যদিকে
জামায়াত নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি অবিলম্বে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে আদেশ জারির
জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দাবি জানিয়েছে। দলটি অভিযোগ করেছে যে, বিএনপি সংস্কার
ভেস্তে দিতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে একটি স্থায়ী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য
প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসকে
সভাপতি করে ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি।
সুপারিশ সরকারের কাছে দেয়ার পর এ কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১শে অক্টোবর।
কমিশন তাদের সুপারিশে সংবিধান সংশ্লিষ্ট মোট ৪৮টি বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে
কমিশন এগুলো বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প সরকারের কাছে তুলে ধরেছে।
“সরকারকে অনুরোধ করেছি যে সরকার যেন অবিলম্বে একটি আদেশ জারি করে। এ আদেশের
বিষয় হবে জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক। এই আদেশের অধীনে সরকার একটি
গণভোটের আয়োজন করবেন,” সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন কমিশনের
সহ-সভাপতি মি. রীয়াজ।
সুপারিশে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ হিসেবে
কার্যকর থাকবে, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর থাকবে ২৭০
দিন।
কিন্তু ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে
তাদের দায়িত্ব সম্পাদন করতে না পারে তাহলে গণভোটে পাশ হওয়া বিল স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে
সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে।
বিএনপির দিক এই সুপারিশের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির
সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একে ‘অটো পাসের’ সাথে তুলনা করেছে বলেছেন ‘রেফারিকে এভাবে কখনো গোল দিতে দেখিনি’।
