ছবির উৎস, Getty Images
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করার যে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার ফলে ইরান যুদ্ধে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
কারণ, ট্রাম্পের ওই ঘোষণার ফলে এখন বিশ্ববাজারে বিশেষ করে মিত্র চীনের কাছে ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানকে আরো বড় অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিলে পারে, বলছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্প।
পশ্চিমা অনেক বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে চীনের মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।
যুদ্ধের আগে ইরান থেকে সরবরাহ করা তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। চীনের সাথে ইরানের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল।
দুই দেশ ২০২১ সালে ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী চীন ২৫ বছরে ইরানে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, আর এর বিনিময়ে ইরান চীনকে নিয়মিত তেল সরবরাহ করবে।
এ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে।
মি. ক্রাম্প মনে করেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই ভাবছে তারা অন্য পক্ষের তুলনায় ‘সুবিধাজনক’ অবস্থানে রয়েছে, এবং উভয়েই মনে করছে তারা প্রতিপক্ষকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।
কিন্তু দুই পক্ষের এমন মনস্তাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
তিনি বলছেন, ইসলামাবাদের আলোচনা থেকে কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে দুই পক্ষ পৌঁছাতে না পারলেও, সেখানে একটি ‘ইতিবাচক’ ব্যাপার ঘটেছে যে দুই পক্ষ অনেক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছে।
মি. ক্রাম্প বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্পষ্ট বোঝা যায় পাকিস্তানে হওয়া শান্তি আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তিনি কতটা ‘ক্ষুব্ধ’ হয়েছেন।

