খবর অনলাইন ডেস্ক: বছরের শেষ রাত। একই সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করার পালা। রাত ১২টা বাজতে না বাজতেই চারদিক থেকে ভেসে এল বাজি-পটকার আওয়াজ। এ যে কালীপুজো-দীপাবলির রাতকেও হার মানায়। এই রাতেই পাড়ায় পাড়ায় ২০২৬-কে স্বাগত জানানো হচ্ছে। আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।

চলতি বছরের শেষ সন্ধ্যায় গঙ্গারতি।
শহর আলোয় আলোকময়। উৎসবের মেজাজে কলকাতা। সেই উৎসবে শামিল হতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে শহরবাসী। বছরের শেষ দিনটা জনজোয়ারে ভেসেছে আনন্দনগরী।

ভিড়ে জমজমাট চিড়িয়াখানা।
শুধু বুধবার সন্ধাতেই নয়, সকাল থেকেই অনেকেই বেরিয়ে পড়েছেন, পছন্দের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে। ভিড় করেছেন চিড়িয়াখানায়, কেউ ছুটেছেন ইকো পার্কে। আবার কারও বা পছন্দের তালিকায় ছিল ভিক্টোরিয়া, জাদুঘর, নিক্কো পার্ক। সন্ধেবেলায় গঙ্গাতীরে গঙ্গা-আরতি দর্শন করেছেন অনেকেই।

সায়েন্স সিটিও কম যায় না।
উৎসবের শহরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যেমন কলকাতা পুলিশের কর্তব্য ছিল, তেমনই বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। এই কাজে ভালোভাবেই উতরে গিয়েছে মহানগরীর পুলিশ প্রশাসন।

ঐতিহ্যশালী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে কি ভোলা যায়?
ভিড় সামলাতে কলকাতা মেট্রো বুধবার রাতে ব্লু লাইনে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল। দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে বিশেষ ট্রেনগুল ছাড়ে রাত ৯টা ৪০, ৯টা ৫২, ১০টা ০৫ এবং ১০টা ১৮ মিনিটে। অন্য দিকে, শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী ট্রেন চলে রাত ৯টা ৫৪, ১০টা ০৪ এবং ১০টা ১৭ মিনিটে। এ ছাড়াও রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম পর্যন্ত একটি বিশেষ পরিষেবা চালানো হয়, যাতে উত্তরমুখী যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হয়। বলা বাহুল্য, মেট্রোর এই অতিরিক্ত পরিষেবা এ দিন রাতের দিকে ভিড় সামলাতে খুবই কাজে দিয়েছে।

বছরের শেষ দিনটা খেলে কাটালেই বা মন্দ কি!
বছরের শেষ দিনটা যে কলকাতার কোনো দর্শনীয় স্থানে যেতে হবে এমন তো নয়। কোথাও গিয়ে তো বিন্দাস নিজের মতো করেও সময় কাটানো যায়। পার্কে, মাঠে, ময়দানে গিয়েছেন, ক্রিকেট খেলে সময় কাটিয়েছেন। মোদ্দা কথা, বছরের শেষ দিনটায় শহরবাসী যেন ছিলেন পিকনিকের মুডে।
ছবি: রাজীব বসু
