বিচারব্যবস্থাকে অবমাননার অভিযোগ ঘিরে অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের একটি পাঠ্যপুস্তককে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ জারি করে। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলি।

মামলাটি দায়ের হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর ও জাতীয় শিক্ষাবিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পাঠ্যপুস্তকের একটি অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আদালতের মর্যাদাহানিকর।

সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপন করেন। প্রধান বিচারপতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার শুনানিতে বেঞ্চ গোটা ঘটনাকে ‘মারাত্মক অবমাননাকর’ ও ‘বেপরোয়া’ বলে মন্তব্য করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে গিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা রক্তাক্ত।”

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায় যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের নাম জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিষদের অধিকর্তা দীনেশপ্রসাদ সাকলানির বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

পরিষদের তরফে আগেই ক্ষমাপ্রার্থনা করে জানানো হয়েছিল, ত্রুটি অনিচ্ছাকৃত। তবে আদালত জানিয়েছে, সেই ক্ষমা আন্তরিক না কৌশলগত—তা বিচার করা হবে।

এই রায় শিক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা ও পাঠ্যক্রমে সমালোচনার পরিসর—দু’য়ের ভারসাম্য নিয়েই এখন নজর আইনমহলের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *