আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় বঞ্চিত নেতাদের অসন্তোষ ও সমান্তরাল তৎপরতা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শনিবারও কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের প্রকাশ্য বিক্ষোভ, শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বলছেন, ঘোষিত তালিকা ‘চূড়ান্ত নয়’, হাইকমান্ড পুনর্বিবেচনা করতে পারে এবং বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেওয়া উচিত।

কুমিল্লার ৭ আসনেই সমান্তরাল প্রচার ও সংঘাত : কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী ঘোষণার পর ৭টি আসনেই মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা মাঠ ছাড়েননি। আমিনুর রশিদ ইয়াছিন (কুমিল্লা-৬), এ এফ এম তারেক মুনশি (কুমিল্লা-৪), নজির আহম্মেদ ভূঁইয়া (কুমিল্লা-১০), আতিকুল আলম শাওন (কুমিল্লা-৭), মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, নিয়াজ মাখদুম মাসুম বিল্লাহ (কুমিল্লা-১১) প্রমুখ নেতা আলাদা শোভাযাত্রা, কর্নার মিটিং ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা তারেক রহমানের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের নামে প্রচারণা করলেও মূল লক্ষ্য মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা।

কুমিল্লা-৯ আসনে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা ও মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম মজুমদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হওয়ার পর তারেক রহমান নিজে ফোনে পরিস্থিতি শান্ত করার নির্দেশ দেন। তবে মাঠের কার্যক্রম থামেনি। মনোনীত প্রার্থী ও তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, এতে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভক্তি বাড়ছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে এক মঞ্চে তিন বঞ্চিত নেতা, এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ : মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে মনোনীত শেখ মো. আব্দুল্লাহকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে তিন মনোনয়নবঞ্চিত নেতা কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাবেক উপজেলা সভাপতি আলহাজ মমিন আলী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন গতকাল শনিবার শ্রীনগর স্টেডিয়ামে বিশাল সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে নেতাকর্মীরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

সপু অভিযোগ করেন, মনোনীত প্রার্থীর ছোট ভাই গণআন্দোলনের সময়কার হত্যা মামলার আসামি এবং বর্তমানে জেলে। তিনি দাবি করেন, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষের ভরাডুবি হবে।

পাবনা-৪ আসনে সাবেক এমপি সিরাজ সরদারের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা : পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে মনোনীত জেলা আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ। আসনের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সরদার গতকাল বিশাল মোটরবাইক শোভাযাত্রা এবং পথসভা করে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানান। তিনি বলেন, হাবিবের মতো ‘চাঁদাবাজি-দুর্নীতিতে বিতর্কিত’ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে কর্মীরা ভোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার আগেই এই অভ্যন্তরীণ সংকট যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে বিএনপির ভোটের মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন। তারা বলছেন, দলের হাইকমান্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কীভাবে বঞ্চিতদের অভিমান কমিয়ে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনা যায়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *