‘বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক বিচার করা যায় না’, স্পষ্ট জানাল ট্রাইব্যুনাল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্পত্তি মোত্তাকিনের নাম

কলকাতা: কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ মোত্তাকিন আলমের মনোনয়ন দেওয়াই আটকে যাচ্ছিল আর একটু হলে। দুপুর ১২টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে মোত্তাকিনের আবেদনের নিষ্পত্তি করা নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। পরে মোত্তাকিনের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়। প্রাক্তন বিধায়ক পাসপোর্ট সহ সব নথিই জমা দিয়েছিলেন। তারপরও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে আটকে যায় তাঁর নাম। কিন্তু কোনও সমস্যাই খুঁজে পেল না ট্রাইব্যুনাল। নিষ্পত্তি হয়ে গেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।

কোন কোন নথি জমা দিয়েছিলেন মোত্তাকিন

জমা দিয়েছিলেন পাসপোর্ট। সেখানে মোত্তাকিনের নাম Md Mattakin আর বাবার নাম Ali Mohammed। প্যান কার্ডে নাম মোত্তাকিনের নাম Md Mottakin Alam। এছাড়া ভোটার আই কার্ডও জমা দিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। এনুমারেশন ফর্মের সঙ্গে সব নথি জমা দিয়েছিলেন তিনি। আধার কার্ডেও তাঁর নাম Md Mottakin Alam। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দেওয়া অ্যাডমিট কার্ডও দিয়েছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে মালদহের ইংরেজবাজারের ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত হয় মোত্তাকিনের বাবার। তারপর ২০০২ সালের এসআইআর তালিকাতেও ছিল তাঁর বাবার নাম। শুধু তাই নয়, যদুপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মোত্তাকিন। ২০১৬-তে মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কও হন তিনি। সেই সব সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছিলেন মোত্তাকিন।

কেন নোটিস দেওয়া হয় মোত্তাকিনকে?

এইআরও নোটিস দিয়েছিলেন মোত্তাকিনকে। তাঁকে বলা হয়, বাবার নামের সঙ্গে গরমিল রয়েছে তাঁর। আরও বলা হয় যে বাবার সঙ্গে মোত্তাকিনের ৫০ বছর বয়সের ফারাক।

কেন নিষ্পত্তি করল ট্রাইব্যুনাল?

ট্রাইব্যুনাল খতিয়ে দেখেছে, মোত্তাকিনের বাবার ভোটার কার্ডে নাম রয়েছে আলি ওলি, এনুমারেশন ফর্মেও ওই নামই দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টে মোত্তাকিনের বাবার নাম ওলি মহম্মদ। ২০১৫ সালের ভোটার কার্ডে তাঁর নাম আলি মহম্মদ। মোত্তাকিনের প্যান কার্ডে তাঁর বাবার নাম আলি মহম্মদ। ১৯৭১-এর ভোটার তালিকাতেও বাবার নাম আলি মহম্মদ। যেহেতু সব নথিতে ভোটার কার্ডের নম্বর একই রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে কোনও ডিসক্রিপেন্সি বা অসঙ্গতি খুঁজে পায়নি ট্রাইব্যুনাল।

আর বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে যে দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, সে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের বক্তব্য, ভোটারের বাবা-মাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা বিচার করার কোনও এক্তিয়ার নেই। এই বয়সের ফারাক কখনও ভোটার কার্ড থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণ হতে পারে না। তাই মোত্তাকিনের নাম ভোটার তালিকায় তোলার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *