বাংলাদেশে আবারও এক সংখ্যালঘু খুন। ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানার ভেতরে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ৪২ বছরের বজেন্দ্র বিশ্বাস। অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর সহকর্মী আনসার সদস্য নোমান মিয়াকে। গত দুই সপ্তাহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে এটি তৃতীয় হত্যাকাণ্ড বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই ধারাবাহিক ঘটনার জেরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধে পৌনে ৭টা নাগাদ, ভালুকা উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায়। বজেন্দ্র বিশ্বাস বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী আনসারের সদস্য ছিলেন এবং অভিযোগকারী নোমান মিয়াও একই বাহিনীর নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, কথা বলতে বলতে নোমান মজা করার ভঙ্গিতে বজেন্দ্রের দিকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগান তাক করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলির শব্দ শোনা যায় এবং বজেন্দ্রর বাম উরুতে গুলি লাগে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আগেই মারা গিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তা মহম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত শটগানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নোমানের দাবি, এটি নেহাত দুর্ঘটনা, তবে তাঁর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
