বলিউডে শোকের ছায়া। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। সোমবার, ১০ নভেম্বর, সকালে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর টিম। রেখে গেলেন স্ত্রী হেমা মালিনী এবং ছয় সন্তান— সানি দেওল, ববি দেওল, ঈশা দেওল, আহানা দেওল, অজিতা এবং বিজেতা দেওলকে।
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুমুখী অভিনেতা ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ ছবির মাধ্যমে রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তারপর একের পর এক হিট ছবি— ‘ফুল অউর পাথর’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘যাদোঁ কি বারাত’, ‘নৌকর বিবি কা’, ‘বেতাব’, ‘ঘায়াল’— তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল তারকাখ্যাতির শিখরে।
‘হি-ম্যান অব বলিউড’ নামে খ্যাত ধর্মেন্দ্রর শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও সংলাপ বলার ভঙ্গি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি ২০১২ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্ম ভূষণ-এ ভূষিত হন।
পাঞ্জাবের লুধিয়ানার এক গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষণ দেওল। মাত্র ১৯ বছর বয়সে, ১৯৫৪ সালে, তিনি বিবাহ করেন প্রকাশ কৌরকে। পরবর্তীকালে সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীর প্রেমে পড়েন এবং তাঁকেও বিবাহ করেন।
চলচ্চিত্র জীবনের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। নিজের খামারে কাজ করার ভিডিও, ট্র্যাক্টর চালানোর মুহূর্ত, কিংবা সাধারণ জীবনের সরলতা নিয়ে তাঁর বার্তা— সবই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ছিল।
তাঁর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ মুক্তি পাবে আগামী ২৫ ডিসেম্বর।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে বলিউড হারাল এক যুগের প্রতীক, এক অনুপ্রেরণার নাম।
