ডিসেম্বরের শেষভাগে এসে শীত যেন নিজের দাপট নিয়ে হাজির। মরশুমের মধ্যে এই প্রথমবার কলকাতার তাপমাত্রা নামল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। আবহাওয়ার এই হঠাৎ বদলেই শীতের চাদর আরও ঘন হয়েছে তিলোত্তমার বুকে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। এরপর দু’-তিন দিন একই রকম শীত বজায় থাকলেও, ৩১ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। নতুন বছরের শুরুতে পারদ ২-৩ ডিগ্রি বাড়লেও শীতের ছোঁয়া থেকেই যাবে।
এর আগেও একাধিকবার শহরে ঠান্ডার দাপট দেখা গিয়েছে—২৫ ডিসেম্বর ছিল ১৩.৭ ডিগ্রি, তারও আগে ২১ ডিসেম্বর নেমেছিল ১৪.৪ ডিগ্রি। কিন্তু চলতি মরশুমে এবারই প্রথম ১২ ডিগ্রির ঘরে নেমে ঠান্ডার তীব্রতা স্পষ্ট করেছে শীত।
উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও তীব্র। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে জারি হয়েছে শীতল দিনের সতর্কতা। রাতের পারদ নামছে ১০ ডিগ্রির নিচে, দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ডিগ্রি কম। দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পাহাড়ি এলাকা ও উত্তরবঙ্গে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দপ্তর।
বাংলার পাশাপাশি জমে গিয়েছে উত্তর ভারতও। পাঞ্জাব, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, সিকিম, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে পারদ দ্রুত নামছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, অসম ও ওড়িশায় জারি হয়েছে কুয়াশা সতর্কতা।
সব মিলিয়ে, বছরের শেষে শীতের এই জমাট ইনিংস সাধারণ মানুষকে যেমন উচ্ছ্বসিত করেছে, তেমনই আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে—শীত আপাতত কোথাও যাচ্ছে না, বরং আরও কয়েকদিন থাকতে চলেছে বাংলার আকাশে-মাটিতে।
ও
