রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আজ রবিবার ফ্লোরিডায় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আলোচনা হবে মূলত ২০ দফা শান্তিপরিকল্পনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়গুলোর ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে। গত শুক্রবার জেলেনস্কি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২০-দফা পরিকল্পনার ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের কাজ হচ্ছে সবকিছু শতভাগ ভাগ প্রস্তুত, সেটি নিশ্চিত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, আমরা একটি দিনও নষ্ট করছি না। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করতে রাজি হয়েছি। নতুন বছর আসার আগেই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।
এ বছর ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকবারই জেলেনস্কির বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটি তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় ভেস্তে যায়। তবে অতিসম্প্রতি অক্টোবরে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকটি অনেকটাই সৌহার্দপূর্ণ ছিল। ট্রাম্প-জেলেনস্কির এই বৈঠকের বিষয়টি নির্ধারিত হয় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রধান আলোচক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা কুশনারের দীর্ঘ এক ঘণ্টার ফোনালাপের পর। এই সংলাপে ‘নতুন কিছু ধারণা’ উঠে এসেছে যা সত্যিকারের শান্তির কাছাকাছি যেতে সহায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আমরা কাজের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সত্যিকারের শান্তিকে কীভাবে কাছে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনার কাঠামো, বৈঠক এবং সময়সূচি নিয়ে কিছু নতুন ধারণা এসেছে। শান্তিপরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন রুশ কর্মকর্তারাও। এ সময় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
কিয়েভে শক্তিশালী বিস্ফোরণ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতকাল শনিবার একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময় কর্র্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে রয়েছে রাজধানীটি। টেলিগ্রামে বার্তা দিয়ে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, রাজধানীতে বিস্ফোরণ হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে। সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকুন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী শনিবার ভোরে সারা দেশে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জানায়, রাজধানীসহ ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলের ওপর দিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চলাচল করছে।
কিয়েভে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা একাধিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান। এর মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে তীব্র আলোও দেখা যায়। শুক্রবার রাশিয়া অভিযোগ করে, জেলেনস্কি ও তার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া পরিকল্পনাকে ‘ভেস্তে দেওয়ার’ চেষ্টা করছেন। জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছেÑ সর্বসাম্প্রতিক এই পরিকল্পনাটি ২০ দফার একটি প্রস্তাব। এতে বর্তমান ফ্রন্টলাইনেই যুদ্ধ স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে নিরস্ত্রীকৃত বাফার জোন গড়ে তোলা হতে পারে।
মস্কো-পিয়ংইয়ং জোট অটুট রাখার ঘোষণা
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে নববর্ষের বার্তায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের জোট অটুট রাখার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। কিম বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে একই পথে রক্ত, জীবন ও মৃত্যু ভাগাভাগি করার মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিমের এই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর আগে ১৮ ডিসেম্বর পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। ওই বার্তায় পুতিন রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে পিয়ংইয়ংয়ের সেনাদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, এটি দুই দেশের ‘অপরাজেয় বন্ধনকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে। গতকাল শনিবার কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) পুতিনকে পাঠানো কিমের বার্তা প্রকাশ করেছে। কিম বলেছেন, ২০২৫ সাল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য খুবই অর্থপূর্ণ একটি বছর ছিল। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ককে তিনি শুধু বর্তমান সময়েই নয় বরং আগামী প্রজন্ম ও প্রজন্মান্তরে ধরে রাখার মতো মূল্যবান সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক দিন ধরেই বলছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া তাদের হাজার হাজার সৈন্যকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। চলতি বছর এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ায় সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে।
