গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে হানা দিয়ে অন্তত ২০০ জন কর্মী ও সমাজসেবীকে আটক করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। আটককৃতদের মধ্যে সুইডিশ তরুণী জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ রয়েছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে এ হামলা চালানো হয়। নৌবহরের ১৩টি জাহাজ থেকে কর্মীদের আটক করা হয়। তবে বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম যে ‘কনসায়েন্স’ নামের জাহাজে রয়েছেন, সেটি আটকের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটে ফেসবুক এসে শহিদুল আলম জানান, ফ্লোটিলার বাকি জাহাজগুলোর তুলনায় আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। সামনের দিকের জাহাজগুলো ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। এই ভীতি প্রদর্শনেও আমরা নিরুৎসাহিত নই, গাজার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এই অবরোধ ভেঙে ফেলব। ফিলিস্তিন মুক্ত হবেই।
হামলার প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে শহিদুল আলম ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, ‘আমরা বারবার যাত্রা করবো। কারণ এই জলসীমা তোমাদের নয়, ওই ভূখণ্ডও তোমাদের নয়; যতক্ষণ না ফিলিস্তিন স্বাধীন হচ্ছে।’
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে আরও একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার ‘ড্রোন ওয়াচ’ দেখাচ্ছে-আরো এক ঘণ্টা যেতে হবে, যেখানে আমরা সাধারণত সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতি নজর রাখি। আমার ওয়াচে এর আগে একটি তুর্কি জাহাজ দেখা গেছে, তবে এখন পর্যন্ত বিপজ্জনক কিছু ঘটেনি।’
স্পেনের উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা প্রায় ৫০টি জাহাজ ও নৌকা নিয়ে গঠিত এই নৌবহরে ৪০টি দেশের ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। নৌবহরে গাজায় অবরুদ্ধ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সাহায্য সামগ্রী বহন করা হচ্ছে।
গত মার্চ থেকে গাজার সব প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলের বাধার কারণে মানবিক সহায়তা আটকে যাওয়ায় এই নৌবহর আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এটি ইসরায়েলের অবরোধ নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
