নতুন ক্লাসে উঠে নতুন বই পাওয়ার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি বইগুলো অপরিচিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনে ভীতিও কাজ করে। পাঠ্যবই সম্পর্কে ভীতি দূর করতে না পারলে ভালো ফল করা সম্ভব হয় না। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কৌশল জানিয়েছেন শ্রাবন্তী চৌধুরী
পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটলে, বইটি সম্পর্কে ধীরে ধীরে জানা-বোঝার পরিমাণ বাড়লে, বিষয় অনুধাবন করলে এবং নিজের ও নিজের পরিবেশের সঙ্গে মিল খুঁজে পেলে বইয়ের বন্ধুত্ব ঘটে। এই বন্ধুত্ব ঘটে কয়েকটি ধাপে। সব কয়টি ধাপ একদিনেই বা বছরের প্রথম মাসেই শেষ করতে হবে এমন নয়। সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে একটি একটি করে ধাপগুলো সম্পন্ন করো।
প্রথম ধাপ
পাঠ্যবই হাতে পাওয়ার পরই পড়তে বা মুখস্থ করতে যেও না। বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হও। এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করো। প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ, কত মোটা, আয়তন কেমন প্রভৃতি। এরপর একটু সময় নিয়ে বইটির সূচিপত্র, বিষয়বস্তু, শিরোনাম, উপশিরোনাম, টিকা, পরিশিষ্ট প্রভৃতি একনজরে দেখে যাও। আগের ক্লাসে একই বিষয়ে যে বইটি ছিল তার সঙ্গে এই বইয়ের পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করো। এতে বইটি সম্পর্কে তোমার একটি সার্বিক ধারণার সৃষ্টি হবে। কোনো বিষয় সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশ ভয়ের কারণ হলো, সেই জিনিস সম্পর্কে ধারণা না থাকা। বইটির বিষয়বস্তু, আগের বই থেকে তার পার্থক্য এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা থাকার কারণে পাঠ্যবই সম্পর্কে অমূলক ভয় দূর হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ধাপ
দ্বিতীয় ধাপে বইটি সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে হবে। সাধারণত ক্লাসে পড়ার প্রয়োজনেই আমরা বিস্তারিত পাঠে আগ্রহী হই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, পড়তে বলা হচ্ছে বলে পড়া কিংবা শিক্ষক বা অভিভাবকের চাপে পড়া নিজের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে না। তাই জানার জন্য পড়া বা নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য পড়ার মন তৈরি করতে হবে। তখন বিস্তারিত পড়ার বিষয়টি আনন্দময় হয়ে উঠবে। শুধু পরীক্ষায় পাসের জন্য পড়তে হচ্ছে, এমন আর মনে হবে না। ফলে পাঠ্যবইয়ের প্রতি বিতৃষ্ণা ভাব দূর হবে। বইটির পাতা উল্টালে বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাবে। ফলে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যখন পড়াবেন তখন আর বিষয়গুলো অচেনা মনে হবে না। এই পড়ার সময় সব যে বুঝতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সে পাতা বা বিষয় বুঝবে না সেখানে কোনো চিহ্ন দিয়ে রাখতে পারো। শিক্ষক যখন পড়াবেন তখন প্রশ্ন করে জেনে নিতে সুবিধা হবে।
তৃতীয় ধাপ
তৃতীয় ধাপ হলো পর্যালোচনা করে পড়া। বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়ার বিষয়টি দেখো। তোমার পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা দিয়ে বইয়ে যা বলা হয়েছে তা বিবেচনা করো। তোমার অভিজ্ঞতা এবং বইয়ে বক্তব্য কি একই? বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলে তার কারণ নোট করো। যদি ভিন্নমত থাকে তাও লিখে রাখো। এর ফলে পাঠ্যবইয়ের বিষয়ের সঙ্গে তোমার মস্তিষ্কের যোগসূত্র স্থাপিত হবে। এখন আর তোমাকে না বুঝে মুখস্থ করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
চতুর্থ ধাপ
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ পার হয়ে পাঠ্যবইটিকে আবার সাধারণভাবে পড়ে যাও। এর ফলে পাঠ্যবইটি তোমার কাছে নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। আগের থেকে বইয়ের বিষয়াবলি সহজবোধ্য হয়ে উঠবে। এই পাঠ আগের তিন ধাপের পাঠের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে। চতুর্থবার পড়ার কারণে বিষয়গুলো মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে জায়গা পেতে সাহায্য করবে। পরীক্ষার পড়ার জন্য শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসরণ করো। বইয়ের সঙ্গে একবার বন্ধুত্ব হয়ে গেলে দেখবে পড়তে একদম খারাপ লাগছে না। আনন্দময় হয়ে উঠছে তোমার পড়াশোনা।
লেখক : ফিচার রাইটার
