খবর অনলাইন ডেস্ক: পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গী হামলার পেছনে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের প্রমাণ সামনে এনেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। সংস্থার চার্জশিটে পাকিস্তানের নাগরিক সাজিদ সইফুল্লাহ জাটকে এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত এই হামলায় ২৫ জন পর্যটক-সহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এনআইএ জানায়, পাকিস্তানের কাসুরের বাসিন্দা সাজিদ সাইফুল্লাহ জাট লশকর-এ-ত্যায়বার (LeT) ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (TRF) প্রধান। তাঁর গ্রেফতারে যথাযথ তথ্য দিলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। জাটকে অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ, UAPA) নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আট মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে এনআইএ যে চার্জশিট জমা দিয়েছে তাতে আরও তিন পাকিস্তানি সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে— সুলেমানি শাহ, হামজা আফগানি এবং জিবরান। এই তিনজন পহেলগাঁও হামলায় সরাসরি যোগ দিয়েছিল এবং পরে ২৮ জুলাই দাচিগাম এলাকায় ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত হয়।

জম্মু অঞ্চলের এনআইএ আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মোট ছ’জন অভিযুক্তের নাম করেছে, যাঁদের মধ্যে স্থানীয় সহযোগীরাও অন্তর্ভুক্ত। এই স্থানীয় সহযোগীরা  হলেন বশির আহমেদ জোথর, পারভেজ আহমেদ জোথর এবং মহম্মদ ইউসুফ কাতারি। তদন্তে উঠে এসেছে, ২১ এপ্রিল রাতে বশির ও পারভেজ পহেলগাঁও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের হিল পার্ক এলাকায় একটি কুঁড়েঘরে আশ্রয় দেন।  অন্য দিকে, মহম্মদ ইউসুফ দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গলপথে সন্ত্রাসীদের পথ দেখিয়ে হামলার জায়গায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন।

এনআইএ জানিয়েছে, সাত মাসের তদন্তে ১০০০-রও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাতে লশকর-এ-ত্যায়বা ও টিআরএফ-এর বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে।

সংস্থার তরফে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত লশকর/ টিআরএফ এবং সংশ্লিষ্ট চার সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ২০২৩-এর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ১৯৫৯-এর অস্ত্র আইন এবং ১৯৬৭-এর অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চার্জশিটে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *