একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হায়াত একাধারে যেমন মঞ্চ, টিভি ও সিনেমায় অভিনয় করেন, তেমনি নাট্যকার ও নির্দেশনার সঙ্গেও জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি লেখক হিসেবেও সমাদৃত তিনি। এক সময় অভিনয় নিয়ে তুমুল ব্যস্ত থাকা বরেণ্য এই তারকা এখন অনেকটাই কাজহীন। বিশেষ করে নতুন নির্মাতাদের কাছে অনেকটাই উপেক্ষিত তিনি। কয়েকদিন আগে একবার তো বলেই ফেলেন, ‘আমাকে কেউ আর কাজের জন্য ডাকেন না। তবে গল্প ও চরিত্র অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্রে আবুল হায়াতকেই অপরিহার্য মনে করে কেউ কেউ প্রস্তাব দেন তাকে।  এক্ষেত্রে অবশ্য ভালো হওয়ার পাশাপাশি ইউনিটটা কেমন, ঠিকঠাক মতো কেয়ারিং-এর মধ্যদিয়ে কাজটি করা হবে কি না সে সব বিষয়ও বিবেচনায় রাখেন আবুল হায়াত। গল্প এবং চরিত্র ভালো লাগলে, পরিচালকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব বিষয়ে বনিবনা হলেই কেবল কাজ করতে রাজি হন তিনি। 

এরই মধ্যে তিনি এই প্রজন্মের গুণী নির্মাতা সেলিম রেজার নির্দেশনায় একটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন। যেখানে তিনি কেয়া পায়েলের দাদুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আগামীকাল সোমবার ও পরেরদিন মঙ্গলবার এই তারকা চয়নিকা চৌধুরীর একটি নাটকের কাজে ব্যস্ত থাকবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর তিনি আরাফাত মোহসীন নিধির ওয়েব সিরিজ ‘আৎকা’র প্রমোশনাল শুটিংয়ের কাজ করবেন বলেও জানান অভিনেতা। আবুল হায়াত জানান, আগামী ঈদের জন্য তিনি রাবেয়া খাতুনের গল্পে তার নিজের চিত্রনাট্যে ‘সখিনা’ শিরোনামের একটি নাটক নির্মাণ করতে পারেন। যে কারণে কে হতে পারেন ‘সখিনা’ এই নিয়েই আপাতত তার ভাবনা। সঙ্গে সখিনার বিপরীতে কে অভিনয় করবেন সেটা নিয়েও ভাবছেন আবুল হায়াত।

আবুল হায়াত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সখিনা নিয়েই আমার পরিকল্পনা। এই মাসের শেষপ্রান্তে কিংবা আগামী মাসেই এর কাজ শেষ করতে চাই। নিজের নির্মাণ কাজের পাশাপাশি এরই মধ্যে নাটকে এবং ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছি। যতটুকু ব্যস্ততা এখনো অভিনয়কে ঘিরেই। বাকি যে সময়টুকু থাকে আমি বেশিরভাগই বাসাতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, পরিবারও চায় আমি যেন বাসাতেই থাকি। তারপরও মন মানে না। তাই মাঝে মাঝে কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে ভালো লাগে।’

নিজের পরিচালনা নিয়ে এই নন্দিত অভিনেতা বলেন, সবকিছুই কমিয়ে দিয়েছি। এখন কেবল বিশেষ দিবসের জন্য নাটক পরিচালনা করার ইচ্ছে আছে। আগামী ঈদের জন্য নাটক নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছি। মূলত আমি এখন বেশিরভাগ সময়ই লেখালেখিতে দিচ্ছি। প্রতিবারের মতো আসছে বইমেলাতেও বই প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে। নিজের আত্মজীবনী লেখাতেও মনোনিবেশ করেছি। বইমেলার জন্য পারিবারিক কাহিনি নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি।’

এখনকার ওটিটি নিয়ে মন্তব্য, ‘বিশ্বায়নের যুগে এটি সময়ের একটি দাবি। নতুন এক ধারা। যদিও আমি এ ধারায় এখনো নিজেকে যুক্ত করিনি, এর কাজের বিষয়ে সরাসরি কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তারপরও এই ধারাটিকে স্বাগত জানাই। শুনেছি, এর বাজেট ভালো, কাজও ভালো হচ্ছে। তবে নাটকের মতোই যাচ্ছে তাই ভাষার ব্যবহার হচ্ছে বলে শুনি। প্রত্যাশা করি এই মাধ্যমে রুচির বিষয়টা যেন বেশি করে লক্ষ রাখা হয়’। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *