
দেশের রফতানি আয়ে টানা তিন মাস ধরে পতন দেখা গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে রফতানি থেকে এসেছে ৩৮২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪১৩ কোটি ৮ লাখ ডলার। এতে পতনের হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এর আগের দুটি মাস অর্থাৎ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৩ এবং ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছিল। অথচ অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রফতানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যায়।
সেই বড় প্রবৃদ্ধির প্রভাবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাস মিলিয়ে এখনো ২ দশমিক ২২ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির এই ধারা দ্রুতই কমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের জুলাই ছিল আন্দোলন-সংঘর্ষে অস্থির। তবু সে মাসে উল্লেখযোগ্য রফতানি আয় হয়েছিল।
বিপরীতে চলতি বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও রফতানি আয় কমেছে। এজন্য তারা এটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করছেন।

নিউ এইজ পত্রিকার আজকের প্রথম পাতার খবর- Music, physical teacher posts scrapped for pry schools. অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকের পদ স্থগিত করলো সরকার।
ইসলামি দলগুলোর বিরোধিতায় সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুনভাবে তৈরি করা সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকের পদ বাতিল করেছে। এই পরিবর্তন আনা হয়েছে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে সংশোধনী আনার মাধ্যমে।
শিক্ষাবিদরা সিদ্ধান্তটিকে ‘ভুল ও খারাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের অধ্যাপক মানজুর আহমেদ বলেন, “শুধু কিছু গোষ্ঠীর দাবির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ এবং শিক্ষার মান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত”।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পাঠ্যবই ইতোমধ্যেই পাঠ্যক্রমে রয়েছে এবং যেকোনো শিক্ষক তা পড়াতে পারে, কিন্তু সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পূর্বের রাজনৈতিক সরকারগুলো যেভাবে শিশুদের কল্যাণের বিপরীতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতাই এই সময়ে দেখা যাচ্ছে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ দূর করতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানানো হয়, সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে আর দেরি করা যাবে না।
সরকার বলছে, সব দলের অভিন্ন অবস্থান জরুরি; নতুবা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে ঐকমত্য না এলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্তে এগিয়ে যাবে বলেও বৈঠক শেষে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে- তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতবিরোধে উদ্বেগ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক শেষে জানানো হয়, দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে অভিন্ন সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
সরকার স্পষ্ট করেছে, আলোচনার উদ্যোগ দলগুলোকেই নিতে হবে এবং সময়ের মধ্যে ঐকমত্য না হলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্তে এগোবে।
এদিকে সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় বহু আলোচনা হলেও বিএনপি ও জামায়াতসহ বড় দলগুলোর মতপার্থক্য আরও উন্মোচিত হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ আহ্বানে বিএনপি এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এন এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশ এখন সংকটময় অবস্থায় রয়েছে এবং সামনের জাতীয় নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। সোমবার রাজধানীতে আনসারের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি জানান, জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসারই হবে মূল শক্তি। তিনি বলেন, এটি তার কাছে চাকরি নয়, বরং একটি মিশন ও চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে আনসারের পাশাপাশি পুলিশের প্রশিক্ষণও একযোগে চলছে বলে জানান নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে গণভোটে দলগুলোর দেওয়া ভিন্নমত অন্তর্ভুক্ত না করা এবং সনদ বাস্তবায়নের ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে।
সরকার বলছে, বিএনপি ও জামায়াতসহ বড় দলগুলোর দাবিতে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া চেষ্টা চলছে। তবু সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময়সূচি নিয়ে মতভেদ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
দলগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অভিন্ন প্রস্তাব না দিলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্তে এগোবে বলে জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার যে পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল, তার কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে চার রিটকারী আপিল করেছেন।
রিটকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়েছিলেন, তবে হাইকোর্ট শুধুমাত্র কিছু অংশ বাতিল করেছিলেন। আপিল বিভাগে সোমবার তাদের আপিল দাখিল করা হয় এবং শোনা হবে যথাসময়ে।
২০১১ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, শেখ মুজিবর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি, সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন এবং অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে শাস্তি বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথম পাতার খবর – Bangladeshis getting tricked into Russia’s war অর্থাৎ প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন বাংলাদেশিরা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাংলাদেশি জড়িয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদন।
“Promises Written in Blood” শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈধ ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির আশায় যাওয়া অন্তত ১০ বাংলাদেশিকে সেখানে নিয়ে বাধ্য করা হয়েছে সামরিক সহায়ক কাজে। তাদের কেউ কেউ সামনের সারিতেও পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা।
পরিবার ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বর্ণনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়।
ব্র্যাকের মতে, ভুক্তভোগীরা নিয়ম মেনে ভিসা, চুক্তিপত্র ও বিমানবন্দর প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন। সংস্থাটি সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছে, কারণ “অপ্রশিক্ষিত বিদেশি শ্রমিকদের সহজে নিঃশেষযোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে”।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার আজকের খবর – 12 entities apply for digital bank licences, অর্থাৎ ১২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন পর্যন্ত ১২টি স্থানীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। আবেদনের শেষ সময়কাল ছিল ২ নভেম্বর।
আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, অ্যামার ডিজিটাল ব্যাংক-২২এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, প্রস্তাবিত অ্যামার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মার্স, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারি ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামি ডিজিটাল ব্যাংক এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান আজ (৩ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মোবাইল ও অ্যাপ ভিত্তিক সেবা প্রদান করা হবে, শাখা, আউটলেট বা এটিএম বুথের প্রয়োজন হবে না। এর ফলে আর্থিক খাতে কার্যকারিতা বাড়বে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য ঋণ সহজলভ্য হবে, সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর কাছে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
