
এই খবরে বলা হচ্ছে- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের আন্দোলনকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এর একদিন আগে তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে তার একটি বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে, জামায়াত এনসিপির বক্তব্যকে ‘বালখিল্য’ বলে মন্তব্য করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে, এনসিপি সূত্র বলছে, তারা চেয়েছিল জামায়াতও যাতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করে, তবে জামায়াত তা প্রত্যাখ্যান করে।
এনসিপি গণপরিষদ গঠনের পক্ষে, কিন্তু জামায়াতের প্রস্তাবিত নিম্নকক্ষ পিআর ব্যবস্থার বিপক্ষে। দুই দলের এই মতপার্থক্যই এখন প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নিচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার সালাহউদ্দিন আহমেদের করা মন্তব্যে নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের ফ্যাসিস্ট বলা অপমানজনক, এবং তিনি (সালাহউদ্দিন আহমেদ) যেন আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিএনপিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা সফল হবে না।

গত এক সপ্তাহে গার্মেন্টস শিল্পে কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অস্থিরতার পাশাপাশি নাশকতার সন্দেহ বাড়িয়েছে।
শিল্পমালিকরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই এসব ঘটনা ঘটানো হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শিল্প এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্ত ও খতিয়ে দেখার কাজ জোরদার করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে বিশেষজ্ঞরা বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঘাটতির ফল হিসেবে দেখছেন।
তারা বলছেন, এটি একটি ‘ওয়েক-আপ কল’, কারণ কাস্টমস গুদামে নিলাম অযোগ্য দাহ্য রাসায়নিক ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত রয়েছে।
অন্যদিকে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সেও অগ্নি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানের কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই।
আগুনে শত শত কোটি টাকার আমদানি পণ্য পুড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বব্যাপী কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দুর্ঘটনা স্পষ্ট করেছে, ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল আন্তর্জাতিক মানের অগ্নি নিরাপত্তা থেকে এখনো বহু দূরে।

হংকং ও চায়না থেকে আসা দুটি পোশাক চালানসহ বহু পণ্য পুড়ে গেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবারের ভয়াবহ আগুনে।
গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মো. বেনজীর আহমেদ বলেন, “আমরা ছোট ব্যবসায়ী। অল্প টাকার মাল পুড়লেও সেটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। আজ মালামাল খালাসের কথা ছিল, কিন্তু আগুনে সব শেষ।”
রবিবার সকালে অনেক ব্যবসায়ী কার্গো ভিলেজে গিয়ে তাদের পুড়ে যাওয়া মালামাল দেখতে যান। ধ্বংসস্তূপের দৃশ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনজুড়ে ধোঁয়া উঠছিল, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেন।
ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images
ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবর – No proper fire detection, protection systems found at Dhaka airport cargo village: Fire Service, অর্থাৎ ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নি শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের যথাযথ ব্যবস্থা নেই: ফায়ার সার্ভিস।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে যথাযথ অগ্নি শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এড়ানো যেত, এমন মন্তব্য করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “সঠিক শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে এত বড় ঘটনা ঘটত না। আমরা সেখানে এমন কোনো ব্যবস্থা পাইনি। তাই আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তারের কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।”
রোববার বিকেলে বিমানবন্দরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, “ভবনটি মূলত ইস্পাত কাঠামোয় নির্মিত হওয়ায় প্রচুর তাপ শোষণ করেছে এবং এখনো সেই তাপ নির্গত হচ্ছে। এজন্য আগুন নেভার পরও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।”

বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে- অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ব্যবহার, নিজে থেকে ওষুধ সেবন এবং অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার কারণে। এমন তথ্য উঠে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে।
আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দেশে এখনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হচ্ছে। অনেক চিকিৎসকও অপ্রয়োজনে বিস্তৃত কার্যকারিতার (ব্রড-স্পেকট্রাম) অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ চেইন ও চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি না করলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণও চিকিৎসা-অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেন, “প্রেসক্রিপশনভিত্তিক অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ না করলে, অবৈধ বিক্রিও বন্ধ করা সম্ভব নয়।”

শাপলা প্রতীক ফিরে পেতে অনড় অবস্থান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা বলেছেন, কোনোভাবেই চাপিয়ে দেওয়া প্রতীক তারা গ্রহণ করবেন না।
রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনসিপি প্রতিনিধি দল শাপলা প্রতীক সংক্রান্ত ইসির চিঠির জবাব দেয়।
দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এসব সিদ্ধান্ত মূলত চাপিয়ে দেওয়া। তার অভিযোগ, বর্তমান ইসির প্রতীক বরাদ্দে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ইসির আচরণ দেখে মনে হয় রিমোট কন্ট্রোল অন্য কারও হাতে। নির্বাচন কমিশন এখন স্পাইনলেস (মেরুদণ্ডহীন)।”

এই খবরে বলা হচ্ছে- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ আদেশের খসড়া প্রস্তুত করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ লক্ষ্যে রোববার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হয়।
বিশেষজ্ঞ কমিটি শিগগিরই আদেশের একটি খসড়া কমিশনের কাছে উপস্থাপন করবে। এখনো আদেশের বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি।
ঐকমত্য কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশন এমন একটি বিশেষ আদেশের সুপারিশের পথে এগোচ্ছে, যার ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হবে এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালনের ক্ষমতা দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটে একমত হলেও, এর ভিত্তি, সময় ও প্রশ্ন নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এ কারণেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বামপন্থী কয়েকটি দল এখনো সনদে সই করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসায় এই বিশেষ পরিস্থিতিতে জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী একটি বিশেষ আদেশ জারি করা যেতে পারে। তবে আদেশের আইনি ভাষা ও বিস্তারিত কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার আজকের শেষ পাতার একটি খবর- UN Peacekeepers: Nearly 1,400 Bangladeshis to return due to fund cuts অর্থাৎ ইউএন শান্তিরক্ষা: তহবিল কমানোয় প্রায় ১,৪০০ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ফেরত পাঠানো হবে।
বিভিন্ন জাতিসংঘের মিশনে নিয়োজিত প্রায় ১,৪০০ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরিয়ে পাঠানো হবে।
এর কারণ হলো দাতা দেশগুলোর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমানো, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে বিশ্বব্যাপী কমানো হচ্ছে।।

এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে- চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ট্যারিফ নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের বিরোধ, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, পুঁজিবাজারের পতন ও রফতানিতে মন্দা- সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গত ২৮ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারের সূচক কমেছে ৫৯২ পয়েন্ট, রফতানি প্রবৃদ্ধি এক বছরে ৭.৬৮ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৫.৬৪ শতাংশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাইয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৬২৭ কোটি ডলার, যা আগস্টে কমে দাঁড়ায় ৫২২ কোটি ২৭ লাখ ডলারে। সেপ্টেম্বরে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানিও আরও কমবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও অর্থনীতির গতি শ্লথ থাকবে এবং দীর্ঘায়িত মন্দার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

